Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 07:21 pm

গোবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

image

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, স্মারক আলোচনা সভা, কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, "৭ই নভেম্বর কেবল একটি বিশেষ দিন নয়; বরং এটি আমাদের জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সিপাহি-জনতার ঐ ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন মহান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার সেই আদর্শ ধারণ করেই তার সুযোগ্য সন্তান দেশনায়ক তারেক রহমান আজ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রধান নীতি হলো-সবকিছুর আগে বাংলাদেশের স্বার্থ। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বর্তমান সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। সকলের সহযোগিতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।"

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের মূল শিক্ষা হলো-'ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়'। আমরা যদি দেশকে সত্যি ভালোবাসি, তবে ব্যক্তিস্বার্থ ও দলাদলি ভুলে 'বাংলাদেশ সর্বাগ্রে'-এই নীতি মেনে চলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করতে হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।"

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরই মূলত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা ঘটেছিল এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই দেশে জাতীয় সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান, সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত ও সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি