Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 02:26 am

বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় হামলার হুমকি তেহরানের

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করে দিতে পারেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমি চাইব না ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে। তবে আমাকে হয়তো তা-ই করতে হবে।’ তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী, তা শিগগিরই জানা যাবে বলেও তিনি জানান। খবর আল-জাজিরার।

ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ আরও এগিয়ে নেওয়া হবে কি না, তা তিনি ভাবছেন। লক্ষ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ করা।’ তার দাবি, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠতে ইরানের অন্তত ২৫ বছর লাগবে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে খবর রটেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণ বা অনুমতি ছাড়া তারা কিছুই করছে না।’

এর আগে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এটিই ছিল তার প্রথম এমন বৈঠক। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, হামলা ছাড়াও ট্রাম্পের সামনে আরও দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা। অন্যটি হলো অনেক ছাড় দিয়ে চুক্তি করা। তিনি কোন পথে যাবেন, তা নিশ্চিত নয়।

গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। কাতার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা না বাড়াতে সতর্ক করেছেন। চুক্তিতে পৌঁছানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে স্বাধীন জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও তাদের আলোচনা হয়েছে।

আল-জাজিরা ও আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু ইস্যুতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রস্তাবটি যাচাই করছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের সাত দাবি পূরণ করলেই কেবল আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু রাখতে হবে।

রাশিয়া সফরে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি এই সাত শর্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। কোনো আলোচনাও হবে না। শর্তগুলোর মধ্যে আছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।’

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদ ও স্থাপনায় আঘাত হানা হবে।’ গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে ইরান আরও বড় ধরনের প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছে বলেও জানিয়েছে আল-জাজিরা।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাতও ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সেখান থেকে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা চালাচ্ছে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ বাজারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৩০ জন হতাহত হয়েছেন। হুতি-সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টিভি জানায়, সংখ্যাটি প্রাথমিক। উদ্ধারকাজ চলছে। রাজধানী সানার হামদান এলাকাতেও হামলা হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সৌদি হামলায় সা’দায় সাতজন নিহত হন। হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল আসবাহি জানান, প্রথমে একটি ফার্মে হামলা হয়। উদ্ধারকারীরা পৌঁছালে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়।

সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মক্কা অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হুতিরা প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে। বুধবার তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিসাইল ছোড়ে। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান চালাচ্ছে। সেনা মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল নুজাইলির দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। সেনারা তাইজের সানামাত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ডালাস অ্যানালিটিক্স সংশ্লিষ্ট গোপন নথি ফাঁস করেছে। সরবরাহ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।