Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:06 am

সেতু নেই, সাঁকোও ভাঙা—দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ

image

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের অলি মিয়ার খালের ওপর নির্মিত কারপাশা-সহরমূল সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর মূল অংশ ধসে পড়ার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও ভেঙে সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে দুই এলাকার মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিকল্প হিসেবে আব্দুল হামিদ সড়ক ঘুরে প্রায় এক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সেতুর উত্তর পাশের মাটি সরে গিয়ে মাঝের একটি বড় অংশ খালে ধসে পড়ে। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে চাঁদা তুলে ও নিজেদের পরিশ্রমে সেতুর ভাঙা অংশের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতিবছরই স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেটিও ভেঙে পড়ে যাওয়ায় চলাচলের আর কোনো মাধ্যম অবশিষ্ট নেই।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের দুই পাড়ে কংক্রিটের সেতুর কিছু অংশ দাঁড়িয়ে থাকলেও মাঝখানে কোনো সংযোগ নেই। একসময় পারাপারের একমাত্র ভরসা হিসেবে তৈরি করা বাঁশের সাঁকোটিও ভেঙে খালে পড়ে আছে। ফলে কারপাশা ও সহরমূল গ্রামের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির গুরুত্ব কেবল দুই গ্রামের যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ঠিক পাশেই অবস্থিত সহরমূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকার শত শত সাধারণ মানুষকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শারীরিক কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে।

এর আগে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নিয়ে প্রথম আলো ও দৈনিক ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানানো হয়েছিল, ওই স্থানে ২৩ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে এবং সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময়েও প্রকল্পটির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এদিকে সামনেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনী প্রচার ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেবল লোকদেখানো প্রতিশ্রুতির বদলে জনদুর্ভোগ লাঘবে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ দেখতে চান তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক কোনো সংস্কার নয়; অলি মিয়ার খালের ওপর দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে কারপাশা ও সহরমূল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি