নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও তার এনভয় গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অলিও অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। পাওনা ও চাকরি সংক্রান্ত বিরোধে মামলাটি করেছেন শওকত আলী নামে একজন শ্রমিক।
মামলার নথিতে শ্রমিকের পাওনা, চাকরি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নাম এসেছে। সালাম মুর্শেদী বর্তমানে এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।
একাধিক সূত্রমতে, সালাম মুর্শেদীর গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে তার পরিবারের একাধিক সদস্য জড়িত। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী চেয়ারম্যান শারমিন সালাম, পরিচালক মেয়ে ব্যারিস্টার শেরিন সালাম ঐশী এবং ছেলে ইশমাম সালাম। গত ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য ও বাফুফের সাবেক সহ-সভাপতি মুর্শেদী ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
নথি অনুযায়ী, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অলিও অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এজিএমকে মামলার আসামি করা হয়েছে। বাদী শওকত আলী ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর অলিও অ্যাপারেলসে ‘লাইন চিফ’ হিসেবে যোগ দেন। স্থায়ী শ্রমিকের মর্যাদায় সর্বশেষ মাসিক মজুরি ছিল ৩৬ হাজার ৮৫৩ টাকা (মূল মজুরি ২২ হাজার ৯৩৫ টাকা)। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিলেও নিয়োগপত্র দেয়নি। তিনি চলতি বছরের ১২ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকমাস বেতন পরিশোধ করেনি। পরে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসের বেতন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করবে বলে শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ গত আগস্টের বেতন চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ না করে ওই মাসের ১০ তারিখ বিকাল ৫টায় ছুটি দিয়ে দিলে শ্রমিকরা চলে যান।
১১ আগস্ট কাজ না থাকায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত শ্রমিকরা বেতনের জন্য বসে থাকেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেতন না দেওয়ায় শ্রমিকরা চলে যান। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার পর শওকত আলীসহ কয়েকজন শ্রমিককে ডেকে শ্রমিকদের বুঝানোর অনুরোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সেই মোতাবেক তারা ১২ আগস্ট শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। ১২ আগস্ট সকাল ৯টায় শ্রমিকরা কাজ শুরু করলেও সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আকস্মিক কাজ বন্ধ করে দেন। এই ঘটনার রেশ ধরে গার্মেন্টস ইনচার্জ আনিস শওকত আলীকে ডেকে নিচে পাঠিয়ে দেন এবং কারখানার জিএম শামীম কোনো কারণ ছাড়াই তাকে কারখানা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। শওকত তার কারণ জানতে চাইলে তিনি তাকে সিকিউরিটি ডেকে কারখানা থেকে বের করে দেন। এরপর শওকত কয়েকবার কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কারখানার প্রবেশ করতে চাইলে সিকিউরিটি গার্ড তাকে বাধা দেন। সিকিউরিটিরা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে।
পরে বাধ্য হয়ে কাজে যোগদানের অনুমতি চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর ডাকযোগে চিঠি পাঠান শওকত। ১৩ সেপ্টেম্বর চিঠির জবাব দেয় কর্তৃপক্ষ। জবাবে শওকত আলী জানতে পারেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর পত্রের মাধ্যমে শ্রম আইনের ২৭(এক) ধারা মোতাবেক তাকে চাকরি হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর শওকত আলীকে দুটি চিঠি দিয়ে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি কোনো চিঠি পাননি। কারখানা কর্তৃপক্ষ ষড়যন্ত্র করে অব্যাহতি ও কাজে যোগদানের নাটক সাজিয়েছে। শ্রম আইন লঙ্ঘন করায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।