Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:00 am

মুরগির দোকানকে গোডাউন দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ

image

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ২ নম্বর চানন্দী ইউনিয়নে সরকারি বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি মুরগি রাখার ঘরকে সারের গোডাউন হিসেবে দেখিয়ে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের নামে ডিলারশিপের লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীরা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিস যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন আবেদনকারীর কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। চানন্দী ইউনিয়ন থেকে পাঠানো ৩টি আবেদনের মধ্যে ভূঁইয়া গ্রামের একটি পরিবারের আবেদন তালিকার প্রথমে ছিল বলে দাবি করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার নামে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় রহস্যজনকভাবে তাদের নাম বাদ দিয়ে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছারোয়ার হোসেন ওরফে সারোয়ার মাঝির নামে ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বাস্তবে কোনো সারের দোকান বা উপযুক্ত গোডাউন নেই। ছারোয়ার হোসেন পেশায় ইটভাটার মাঝি এবং নদীতে বালু ব্যবসা ও মাটি কাটার কাজের সঙ্গে জড়িত। সার ব্যবসায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই। একটি ফার্মের মুরগি রাখার ঘরকে সারের গোডাউন দেখিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবারকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের দাবি, ৩ ভাই বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করে ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমার বাবার নামে সব বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা কৃষি অফিসের যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের আবেদন এক নম্বরে ছিল। অথচ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকানকে গোডাউন দেখিয়ে কীভাবে সার ডিলারশিপ দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কৃষি অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক বরাবর গত ১ নভেম্বর লিখিত আবেদন করেছেন চানন্দী ইউনিয়নের ভূঁইয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন।

আবেদনে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছারোয়ার হোসেনের নামে অনুমোদিত সার ডিলারশিপ পুনঃতদন্ত করে বাতিলের দাবি জানানো হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে বাস্তবে কোনো সারের গোডাউন বা প্রতিষ্ঠান নেই এবং সার ব্যবসায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই। সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছারোয়ার হোসেন ওরফে সারোয়ার মাঝি।

তিনি বলেন, আমি গত ৮ মাস ধরে এই গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে একজন গরিব মানুষ কিছু মুরগি রেখেছেন। এটি কোনো মুরগির দোকান নয়। আজ সবকিছু পরিষ্কার করে সাইনবোর্ড লাগিয়েছি। আমার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক আছে। তদন্ত হলে আমার কোনো অসুবিধা নেই।

এর আগে হাতিয়ার তমরুদ্দি ইউনিয়নে ছেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, চরকিং ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় গুদাম সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিন।

এবার চানন্দী ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে