Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 01:50 am

বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের তালিকা দিল শ্রমিকদল

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার সুপারিশ করে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (সিবিএ-১৮৫) ছয়জন কর্মকর্তাকে বিএনপিপন্থি ও জাতীয়তাবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তাদের পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছে। একই চিঠিতে ১০ কর্মকর্তাকে আওয়ামীপন্থি ও আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে তাদের পদোন্নতি না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর সংগঠনটির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব সুপারিশ করা হয়। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জিএম পদে পদোন্নতির জন্য ৪ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত উপমহাব্যবস্থাপকদের (ডিজিএম) সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বিবেচনার জন্য বিএনপিপন্থি ও আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের পৃথক তালিকা সুপারিশসহ পাঠানো হয়েছে।

সিবিএ-১৮৫ এর তালিকায় বিএনপিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা ছয় কর্মকর্তার সবাই কৃষি ব্যাংকে কর্মরত। তারা হলেন জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, কে এম হাবিব-উন-নবী, মুহাম্মদ তাইবুর রহমান ও আসাদুম্মাদ বাবর।

চিঠিতে জাহিদ হোসেনকে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও কৃষি ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি গত ১৭ বছর ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী ফোরামের মুখ্য সংগঠক। সৈয়দ লিয়াকত হোসেনকে সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং অফিসার্স কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কে এম হাবিব-উন-নবীকে সিনিয়র বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা এবং মুহাম্মদ তাইবুর রহমানকে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের কারণে দূরদূরান্তে শাস্তিমূলক বদলির শিকার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসাদুম্মাদ বাবরকে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা ও জাতীয়তাবাদী ফোরামের অন্যতম সংগঠক বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থি ও বিএনপিবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ১০ কর্মকর্তার তালিকায় রয়েছেন খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ গোলাম মাহবুব, মোহাম্মদ আহাদ খান, কাজী নজরে মঈন, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ফকির, শরীফ মো. তাহাওয়ার হোসাইন, আনোয়ারুল আজিম খান, আব্দুর রশীদ মোল্যা ও আফিয়ারা খানম।

তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কাজী নজরে মঈন সম্পর্কে একই চেয়ারে ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। আফিয়ারা খানম সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ১৭ বছর বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের বঞ্চিত রেখেছেন।

সাক্ষাৎকারের সূচিতে ৫৫ কর্মকর্তা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের ৪৮৮ নম্বর স্মারকে জিএম পদে পদোন্নতির জন্য ডিজিএমদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা জানানো হয়। গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এ সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।

সিবিএ-১৮৫ এর সুপারিশ করা ছয়জন এবং বিরোধিতা করা ১০ কর্মকর্তার নাম সাক্ষাৎকারের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের আগে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে এ ধরনের সুপারিশের বিষয়টি ব্যাংক খাতের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন সামনে এনেছেন সংশ্লিস্টরা।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংগঠনটির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদকে এই বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।