নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা ৪ কার্যদিবসের দরপতনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এ পুনরুদ্ধারের পেছনে শুধু সূচকের উত্থান নয় বরং দর সংশোধনের সুযোগে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে অর্থের কেন্দ্রীভবন ছিল বেশি লক্ষণীয়। বিশেষ করে বস্ত্র খাতের কয়েকটি কোম্পানিতে বড় অঙ্কের লেনদেন, ব্লক মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের উপস্থিতি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারের ভেতরে অর্থের নতুন বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সার্বিক অনিশ্চয়তা কাটেনি তবে টানা পতনের পর অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে।
বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৭ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৪১ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৮৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৮২টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫০টির। অর্থাৎ দরবৃদ্ধির পক্ষে বাজারের অংশগ্রহণ ছিল বেশ বিস্তৃত। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় মূল বাজারে লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এদিন মূল বাজারে ৫০১ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্লক মার্কেটসহ মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
বাজারের অর্থপ্রবাহ বিশ্লেষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে এ খাতে। একক খাত হিসেবে এই অংশগ্রহণ ছিল সর্বোচ্চ। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মতিন স্পিনিং ও এনভয় টেক্সটাইল। মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার যা ডিএসইর একক কোম্পানি হিসেবে সর্বোচ্চ। দিনশেষে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ২০ পয়সা। অন্যদিকে এনভয় টেক্সটাইলের ১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা।
বস্ত্র খাতে অর্থের এমন কেন্দ্রীভবনের পেছনে করপোরেট ঘোষণাও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় থাকতে পারে। মতিন স্পিনিংয়ের জন্য ১২ নভেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারিত হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৫-২৬ হিসাববছরের জন্য ৪৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি উৎপাদন আধুনিকায়নে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে এনভয় টেক্সটাইলের ব্লক মার্কেটে ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ফলে বস্ত্র খাতে সাধারণ বাজারের পাশাপাশি বড় লটের লেনদেনও অর্থপ্রবাহ বাড়িয়েছে।
ব্লক মার্কেটের চিত্রও বাজারের ভেতরের অর্থের গতিবিধি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার ২৭টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে মোট ২১ কোটি ৭ লাখ টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে এনভয় টেক্সটাইলের ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং ম্যারিকো বাংলাদেশের ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনকে সরাসরি নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রমাণ বলা যায় না। তবে বড় অঙ্কের শেয়ার সাধারণ বাজারের বাইরে হাতবদলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের প্রবণতা বোঝা যায়।
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণেও খুচরা বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য স্পষ্ট। মোট লেনদেনের ৮৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এসেছে তাদের কাছ থেকে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল; মোট লেনদেনে তাদের ক্রয়ের অংশ শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ হলেও বিক্রির অংশ ছিল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ।