Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 04:08 pm

নেত্রকোনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বদি গ্রেপ্তার

image

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা সীমান্তের দুর্গাপুরে ১৯ মামলার আলোচিত আসামি বদিউল আলম বদি ওরফে বদিউজ্জামানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় অন্তত ১৯টি মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার বদি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়ালের ছোট ভাই। তিনি চাঞ্চল্যকর নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির  হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আলোচনায় থাকা ‘শুটার শামীমের’ ভাই।

দুর্গাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বদিউল আলমের বিরুদ্ধে দুই দশক ধরে হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্যও রয়েছে। 

সম্প্রতি সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরে অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডে বদিউল আলমের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বদিউল আলমকে আপাতত একটি অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন মামলার তথ্য রয়েছে। সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় তিনি জড়িত ছিলেন কি না, তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় নিজ শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির।পরে তার স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে। সর্বশেষ ১ নভেম্বর এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন আসামি ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন এবং মো. সাব্বির আহম্মেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

বদির গ্রেপ্তারের খবরে দুর্গাপুরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা উচিত।শুধু হামলাকারী নয়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে