Print Date & Time : 04 November 2026 Wednesday 01:46 am

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া কি উদ্বেগের বিষয়?

image

অনলাইন ডেস্ক: গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং পরবর্তীতে আর সহজে ঘুম না আসা আধুনিক নাগরিক জীবনে অত্যন্ত সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে আচমকা ঘুম থেকে জেগে ওঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের এবং একটি বহুল প্রচলিত দাবিতে বলা হয়ে থাকে যে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ নিয়মিত এই নির্দিষ্ট সময়ে জেগে ওঠেন। এই সুনির্দিষ্ট শতাংশের দাবির পেছনে যথাযথ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যাচাই করার বিষয় থাকলেও রাতের এ সময়ে বহু মানুষের ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যাটি সম্পূর্ণ বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে রাতের বিভিন্ন সময়ে শরীরের হরমোন নিঃসরণ, অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপে স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। কয়েক ঘণ্টা একটানা ঘুমানোর পর মানুষ যখন তুলনামূলকভাবে হালকা ঘুমের ধাপে পৌঁছায়, তখন পারিপার্শ্বিক সামান্য শব্দ, মৃদু আলো কিংবা হালকা তাপমাত্রার পরিবর্তনেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পেছনে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মানসিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, কর্মব্যস্ততা এবং অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর বা রাতে বেশি পরিমাণে চা ও কফি পানের মাধ্যমে ক্যাফেইন গ্রহণ, অ্যালকোহল, ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল ও কম্পিউটারের উজ্জ্বল পর্দায় চোখ রাখার অভ্যাস মস্তিষ্কে উত্তেজনা তৈরি করে মাঝরাতে ঘুম ভাঙার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বয়সের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের ধরনে যে স্বাভাবিক রূপান্তর আসে, তাও এই সমস্যার পেছনে ভূমিকা রাখে। বয়োবৃদ্ধ মানুষের ক্ষেত্রে গভীর ঘুমের ব্যাপ্তিকাল কমে যাওয়ায় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এর সাথে বয়সজনিত কারণে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, শারীরিক নানা অসুস্থতা কিংবা শোবার ঘরের অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম তাপমাত্রার মতো শারীরিক অস্বস্তিও মধ্যরাতে ঘুম ভাঙার বড় কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঘুম ভাঙা এতটাই ক্ষণস্থায়ী হয় যে মানুষ সকালে উঠে তা মনেও রাখতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া মানেই তা কোনো বড় রোগের লক্ষণ নয়; ঘুম ভাঙার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়তে পারলে সাধারণত উদ্বেগের কোনো কারণ থাকে না। তবে যদি প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ভেঙে দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকতে হয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত লাগে কিংবা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তবে বিষয়টি অবহেলা না করে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একটি নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস করা, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন বর্জন, শোয়ার আগে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা এবং একটি আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন; আর সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
জেএ/অভি