জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: যে জমিতে একসময় লবণাক্ত পানির কারণে ফসল ফলানোই ছিল কঠিন, সেই জমিতেই এখন দিগন্তজুড়ে সূর্যমুখীর হাসি!
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে প্রায় এক হাজার একর জমিতে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। একসময় পতিত পড়ে থাকা এসব জমি এখন কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততার কারণে পুকুর, খাল ও নলকূপের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ব্যাহত হয় ধান ও সবজি চাষ। ফলে বছরের পর বছর অব্যবহৃত থাকত অনেক কৃষিজমি।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক। সরবরাহ করা হচ্ছে লবণসহিষ্ণু হাইসান ৩৩ জাতের সূর্যমুখী বীজ। মাঝারি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারা এই জাতের সূর্যমুখী তুলনামূলক কম মিঠা পানিতেও ভালো জন্মে।
তবে এখানকার গল্প শুধু সূর্যমুখী চাষেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষকেরা এখন নিজেরাই সূর্যমুখীর বীজ থেকে তৈরি করছেন ভোজ্যতেল। গ্রামেই বসানো হয়েছে তেল তৈরির মেশিন। ফলে কাঁচা ফসল বিক্রির বদলে প্রক্রিয়াজাত তেল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থান।
কৃষির এই পরিবর্তনে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। ধান সংরক্ষণাগার, গোবর থেকে জৈবসার তৈরি, সৌরচালিত সেচ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা। অর্থাৎ ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও সেচ—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জও। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণের অভাব, প্রাথমিক বিনিয়োগের চাপ এবং উৎপাদিত তেলের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণ এখনো বড় বাধা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কলাপাড়ার এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও।
লবণাক্ততার কাছে হার না মেনে পতিত জমিতে সূর্যমুখীর চাষ—জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ে উপকূলের কৃষকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন আশার গল্প।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি