Print Date & Time : 04 November 2026 Wednesday 09:42 am

শর্ত পূরণ হলে ২ দিনে হরমুজ খুলবে ইরান

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানিয়েছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজে ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন রুটের স্বীকৃতি দিতে হবে ওয়াশিংটনকে। এটি ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত।

আরাগচি আরও কয়েকটি শর্তের কথা বলেছেন। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা ফের আরোপ করেছে তা তুলে নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা কমাতে হবে। জুনের চুক্তিতে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার যে ঘোষণা ছিল তা পুনর্বহাল করতে হবে। কাতারে জব্দ অর্থসহ ইরানের সব জব্দ অর্থ ছাড় করতে হবে। হরমুজে ইরান ও ওমানের রুট ছাড়া বাকি সব রুট বন্ধ করতে হবে। সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামাতে হবে। বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে।

আরাগচি জানান, মধ্যস্থতাকারী কাতার জানতে চেয়েছিল, শর্ত মানলে আরও কম সময়ে হরমুজ খোলা সম্ভব কি না। এরপর দুই দিনের সময়সীমা ঠিক হয়। প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত পূরণ করতে হবে। পরদিন ইরান প্রণালিটি সবার জন্য খুলে দেবে।

এদিকে ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প সিনিয়র সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরপরই তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন।

গত শনিবার পাম বিচে সাংবাদিকদের ট্রাম্প ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়সহ আরও দুই-একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দেন। টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, তিনি জানান, ইরানের বেশির ভাগ সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এক-দুটি স্থাপনা বাকি আছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমরা এটি মাত্র ১০ মিনিটে করতে পারব।’

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, ইরান পারমাণবিক উপকরণ পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের নিচের গোপন স্থানে রেখেছে। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দুবার হামলা চালালেও পাহাড়টিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে ওই পাহাড়ে হামলার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ গত শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানায়, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই ইরানে নতুন হামলা চালানো হবে। হামলা হবে স্বল্পস্থায়ী, তবে অত্যন্ত তীব্র। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের সব আসন ও সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, হামলা হবে কি না তা নিয়ে অস্পষ্টতায় আছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ। পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আলোচনায় ফেরার আরেকটি সুযোগ দিতে চায়। ইসরায়েলি কমান্ডারদের মতে, অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চুক্তি করবে না। ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন বন্ধের শর্তও তারা মানবে না।

এর মধ্যে আরব উপসাগরে কাতারের একটি এলএনজি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি জানায়, শুক্রবার রাতে ‘আল মায়েদা’ নামের ট্যাংকারটিতে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। কোনো ক্রু আহত হননি। পরিবেশেরও ক্ষতি হয়নি। নৌযানটি নিরাপদ ও সক্রিয় আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত নয়। আরব উপসাগর পারস্য উপসাগর নামেও পরিচিত। হরমুজ প্রণালি দিয়েই এ উপসাগরে প্রবেশ ও বের হতে হয়।