Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 12:13 am

পোশাকশিল্পে প্রবৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা

image

ড. তাসনিম সিদ্দিকী: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে চিন্তা করতে গেলে প্রথমেই আসে বৈশ্বিক শিল্পায়নের পরিবর্তিত বাস্তবতা, বিশেষ করে অটোমেশনের প্রসঙ্গ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্প খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, উৎপাদন প্রক্রিয়া হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়, কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের জীবনমানের উন্নতি সব সময় সমানতালে ঘটছে না। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎপাদন ও ব্যবসার পরিসর বাড়লেও শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। অর্থাৎ শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটছে, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি যে অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে কিংবা শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করবে, বাস্তবে তা হচ্ছে না।

অটোমেশনের প্রভাব এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত বেশি। একসময় এই খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক ছিলেন নারী। বর্তমানে তাদের অংশগ্রহণ কমে প্রায় ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে শ্রমবাজারের কাঠামোগত পরিবর্তন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষতার চাহিদা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

পোশাকশিল্পে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক কারণই ছিল না, শ্রমবাজারের ক্ষমতাকাঠামোও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তুলনামূলক কম মজুরিতে নারী শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে মালিকপক্ষের ধারণা এই খাতের শ্রমশক্তির বিন্যাসে প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘদিন ধরে নারীরা এই শিল্পের প্রধান শ্রমশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য যে ধরনের কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন, তা অর্জনের সুযোগ তাদের জন্য যথেষ্ট বিস্তৃত করা হয়নি।

রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ছিল নারী শ্রমিকদের নতুন প্রযুক্তির উপযোগী করে গড়ে তোলা। যেসব যন্ত্র পরিচালনা, উৎপাদনপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাজে দক্ষতা প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কিন্তু এই প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে পুরুষ শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়ার বিপরীতে নারীরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে শুধু কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাই নয়, শিল্পের অগ্রগতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি পোশাকশিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

নারীর কর্মসংস্থানকে কেবল শ্রমিকের সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করলেও চলবে না। এই শিল্পে কাজের পরিবেশ, মজুরি ও অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও পোশাকশিল্প নারীদের আয়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে তাদের সেই অর্জন সংকুচিত হলে তা শুধু শ্রমবাজারের সমস্যা হবে না; নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই অটোমেশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, পুনর্দক্ষতা অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাজে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। তবে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয়, উৎপাদনশীলতা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন করতে হবে, একজন শ্রমিকের উপার্জন এবং একজন উদ্যোক্তার মুনাফার মধ্যে ব্যবধান কতটা ন্যায্য। ব্যবসায় মুনাফা থাকবে, উদ্বৃত্ত তৈরি হবে— এটাই স্বাভাবিক। উদ্যোক্তার ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের প্রণোদনা হিসেবে মুনাফার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই মুনাফা যখন শ্রমিকের আয় ও জীবনমানের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখনই ন্যায্যতার প্রশ্ন সামনে আসে।

শ্রমিকদের এমন মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যাতে তারা মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন। ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি মজুরির দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নির্ধারণে জীবনযাত্রার ব্যয়, উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের আর্থিক সক্ষমতার তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। তবে তুলনামূলক কম মজুরি দিয়ে দীর্ঘদিন শ্রমিকদের জীবনধারণের সংকট উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও শ্রমাধিকারের প্রশ্ন।

এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক কত মজুরি পাচ্ছেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য থেকে শ্রমের পেছনে কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং উদ্যোক্তার মুনাফার কাঠামো কেমন— এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। শিল্পের আয় ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া মজুরি নিয়ে বিতর্কের কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তার বিনিয়োগ ও ব্যবসার টেকসই প্রবৃদ্ধিও বজায় রাখতে হবে। এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না।

পোশাক শিল্পের মালিকেরা প্রায়ই যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা কম দামে পণ্য কিনতে চান। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এই যুক্তির বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা করতে হয়। ক্রেতাদের মূল্যচাপ, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন— সবকিছুই উদ্যোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলে।

দেশের কিছু পোশাক কারখানা তুলনামূলক ভালো মজুরি, সময়মতো বেতন, দুপুরের খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধা নিশ্চিত করেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে। অর্থাৎ শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করলেই যে ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা সর্বক্ষেত্রে সত্য নয়। ভালো ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ শ্রমশক্তি একটি কারখানাকে একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ও শ্রমিকবান্ধব করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে কিছু কারখানায় শ্রমিকদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। কম মজুরি দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে মজুরি পরিশোধ না করা— দুটি আলাদা সমস্যা। শ্রমিকের আয় কম হলে তার জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, আর সময়মতো বেতন না পেলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো, বাড়িভাড়া দেওয়া ও পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের চাপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। 

পোশাক শ্রমিকদের জীবনমানের সংকট শুধু কারখানার ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। কারখানার বাইরে তাদের আবাসন, যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শহরের প্রান্তবর্তী ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকদের আবাসন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। স্বল্প আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ কক্ষে থাকতে হয়। অথচ সীমিত জায়গার জন্যও তাদের যে বাড়িভাড়া দিতে হয় তা আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসবাস করেও শ্রমিকদের কেন আয়ের তুলনায় এত বেশি ভাড়া বহন করতে হবে? শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যাদের শ্রম অপরিহার্য, তাদের জন্য ন্যূনতম আবাসন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে না কেন? শ্রমিকেরা শুধু উৎপাদনের উপকরণ নন, তারা নাগরিক এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সেবাদাতা। তাদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও নগর অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সেই অর্থনীতিতে তাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

পোশাকশিল্পের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাষ্ট্র, প্রশাসন ও বেসরকারি খাতের মধ্যকার জবাবদিহির ঘাটতি। কোথাও কোথাও অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, হয়রানি কিংবা অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তাদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একদিকে কিছু অসাধু উদ্যোক্তা শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করেন, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা বা অনিয়ম তাদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

দেশের সব পোশাকশিল্পের মালিককে একইভাবে বিচার করা যায় না। অনেক উদ্যোক্তা শ্রমিকের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ ও কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে উচ্চমান বজায় রেখেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব। রাষ্ট্রের উচিত এসব ভালো উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং যেসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিকের অধিকার ও আইনগত বাধ্যবাধকতা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। আইন প্রয়োগে বৈষম্য থাকা চলবে না; একই মানদণ্ডে সব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তবে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো তার নিজের কণ্ঠস্বরকে স্বীকৃতি দেওয়া। মজুরি, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, কর্মঘণ্টা ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। তাদের হয়ে অন্য কেউ কথা বললেই শ্রমিকের প্রকৃত প্রয়োজন প্রতিফলিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শ্রমিকদের স্বাধীন সংগঠন, শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকর দর-কষাকষির সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।

এক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। শ্রমিক সংগঠন যদি শ্রমিকের স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা অর্জন বা ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে পরিচালিত হয়, তাহলে প্রকৃত শ্রমিকস্বার্থ আড়ালে পড়ে যেতে পারে। তাই শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি হতে হবে শ্রমিকদের নিজস্ব স্বার্থ, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি। মালিকপক্ষের সংগঠন এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও দর-কষাকষির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মজুরি ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পোশাকশিল্পে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বিরোধকে অনিবার্য ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করেও ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব। প্রকৃত সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন কিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না এবং শ্রমিকের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত থাকে। রাষ্ট্র ও অসাধু ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ থাকলে তা ভাঙতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য আদায়, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ মোকাবিলার পুরো দায় শ্রমিকের ওপর চাপানো যাবে না। উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও রাষ্ট্র— প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে।
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে বেসরকারি খাতের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব, সামাজিক সংলাপ এবং নিয়মিত দর-কষাকষির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা বা সংকট দেখা দিলে সাময়িক সমঝোতার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন এই শিল্পের পরবর্তী পর্যায়ের উন্নয়ন নির্ভর করবে কতটা দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন মোকাবিলা করা যায়, কতটা ন্যায্যভাবে প্রবৃদ্ধির সুফল বণ্টন করা হয় এবং কতটা কার্যকরভাবে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়, তার ওপর। প্রবৃদ্ধি যদি শ্রমিকের জীবনমান উন্নত না করে, নারী শ্রমিককে দক্ষতার অভাবে কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাদের আবাসন ও নাগরিক অধিকার উপেক্ষা করে, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধির সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। টেকসই পোশাকশিল্প গড়ে তুলতে হলে উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন