Print Date & Time : 01 November 2026 Sunday 10:51 pm

অবলুপ্তির ৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের ২৬৮ শতাংশ জমি বুঝে পেলেন ১১ ক্রেতা

image

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: অবলুপ্তির ৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের নিলামে বিক্রি করা জমির একটি অংশ বুঝে পেয়েছেন ১১ ক্রেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত ২৬৮ শতাংশ জমির দলিল গতকাল রোববার ক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা থাকায় বাকি ১০৫ শতাংশ জমি এখনো হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ক্রেতাদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডেপুটি গভর্নর-১ ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর-২ ড. মো. কবির আহমেদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত জমিগুলো গত ৩১ জানুয়ারি উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা জমিগুলো কেনেন। সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তবে নিলামের পর কয়েকজন ব্যক্তি বিক্রি করা জমির ১০৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। এ কারণে ওই জমির দলিল হস্তান্তর আটকে যায়। 

অন্যদিকে, বাকি ২৬৮ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে নিবন্ধনের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই জমি নিবন্ধনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন ১১ ক্রেতার কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের অবসায়ক বা লিকুইডেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে এসব ব্যাংকের জমি বিক্রি, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসায়ককে।

সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় ১০৫ শতাংশ জমি এখনো ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি।

ব্রিটিশ ভারত আমলে কুমিল্লায় প্রধান কার্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু করা পাইওনিয়ার ব্যাংকের ১৯৪৬ সালে ৩১টি শাখা ছিল। পরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে ১৯৪৯ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকটির অবসায়ন শুরু হয়। এরপর ব্যাংকটির পাওনা আদায় ও সম্পদ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় পরও ব্যাংকটির কিছু সম্পদ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস