আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-সাইবানি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে সিরিয়া। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগ বা প্রচেষ্টাকে দামেস্ক সবসময়ই স্বাগত জানাবে। আঞ্চলিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সিরিয়া এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এর আগে গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর কোনো ধরনের সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সদস্য দেশগুলো নিজ নিজ সামর্থ্য ও শক্তি নিয়ে আক্রান্ত দেশের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। পারস্পরিক সহায়তার এই প্রতিশ্রুতির কারণে বিশ্লেষকদের অনেকেই এই জোটকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক হিসেবে ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন পূর্বে ‘জোলানি’ নামে পরিচিত আহমেদ আল-শারা। এরপর থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রিয়াদ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
বর্তমানে এই জোটের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মুখে রয়েছে। এমন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদির পাশে থাকার এবং সামরিক সহায়তা প্রদানের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আঞ্চলিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার সিরিয়াও মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করল।
জেএ/অভি