Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 12:48 am

মাঠের ব্যর্থতায় আর্থিক সংকটের ছায়া দেখছেন লুৎফর রহমান

image

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা চলছে নানা মহলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের হার, তার আগে আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়-সর্বশেষ তিন টেস্টে জয়হীন বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে দলকে। মাঠের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনে ক্রিকেটারদের আর্থিক সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন নিবেদিত প্রাণ ক্রীড়া সংগঠক লুৎফর রহমান বাদল।

চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ক্রিকেটারদের আয়ের বড় একটি উৎস এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। বিপিএল না হওয়ায় অনেক ক্রিকেটারের বছরে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে। বাদলের মতে, এই আর্থিক ধাক্কা ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে, যার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে মাঠের পারফরম্যান্সেও।

আজ গণমাধ্যমের সঙ্গে লুৎফর রহমান বলেন, ‘(বিপিএল না হওয়ায়) প্লেয়ারদের যে আয়ের ভাঁটা পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে তারা বিধ্বস্ত। (অস্ট্রেলিয়াতে) দ্বিতীয় টেস্টে আমরা হেরেছিলাম। প্যাশনের জন্য ক্রিকেটের সাথে আমি যুক্ত। ৩০ বছর ধরে আমি সংগঠক হিসেবে আছি। আর্থিকভাবে ক্রিকেটারদের কীভাবে চিন্তামুক্ত রাখা যায় সে চিন্তাই আমি করেছি। আগে কিন্তু ফুটবলাররা ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি টাকা পেত। আমি কিন্তু মোহামেডানে দায়িত্ব যখন পাই, ২০০৯ সালে, মোহামেডান অনেক বছর চ্যাম্পিয়ন হয়নি। আমি চিন্তা করেছি কীভাবে আর্থিকভাবে প্লেয়ারদের আরও সচ্ছল করা যায়। এটা আমার ধারণা। এখান থেকেই চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিকভাবে প্লেয়ারদের সচ্ছল করা যায়।’

বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের পেছনে অবশ্য ব্যবসায়িক বাস্তবতাও রয়েছে। আগের আসরে লোকসানের কথা উল্লেখ করে বাদল মনে করেন, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হতে পারে। তবে ক্রিকেটারদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প উপায়ে বিপিএল আয়োজনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে পিছিয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বিপিএলে আমরা অনেক লস করেছি। ব্যবসা হিসেবে দেখলে লস হয়েছে, ব্যবসা হিসেবে এটা বন্ধ করা উচিত হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, ক্রিকেটারদের কথা চিন্তা করে বিপিএলকে অন্যভাবে (করতেও পারত)। গতবার ১-২ মাসের নোটিশে নতুন বোর্ড বিপিএল করেছে, এরপর অনেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি আগেও বলেছি আমাদের স্ট্রাকচারটাই ভালো না। আগে আমরা ২-৩ নম্বরে ছিলাম, এখন মনে হয় বিপিএলের দিক দিয়ে একদম তলানিতে আছি অন্যান্য লিগের তুলনায়।’

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন উদ্যোগ ডি থ্রি টুর্নামেন্ট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন লুৎফর রহমান। ম্যাচ ফি ও নিলাম পদ্ধতিতে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করায় বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও পয়েন্ট পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে ক্লাবগুলোর বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে এবং ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণেও আসবে নতুন কাঠামো।

লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই বোর্ডকে ধন্যবাদ দেই। ডি থ্রি করছে, ম্যাচ ফি দিয়ে। যদি বিপিএলেও নিলাম হয়, সাকিব-তামিমরা কিন্তু কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার ডি থ্রি নিলামে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে বিক্রি হয়েছে। এই প্লেয়ারকে কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই প্লেয়ারই কোটি পয়েন্টে বিক্রি হয়েছে। তার মনমানসিকতা কী হবে চিন্তা করেন। আমি বোর্ডকে অনুরোধ করব, ডিপিএলেও যদি পয়েন্ট সিস্টেম করে, তাহলে আমাদের কোটি কোটি টাকা তো বেচে যায়। ম্যাচ ফি দিয়ে যদি ক্রিকেটারদের নিতে পারি। বোর্ডকে অনুরোধ করব ডিপিএলেও যেন পয়েন্ট দিয়ে দল গঠন করা যায়।’