জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন শুধু আবহাওয়া বদলাচ্ছে না, কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সুযোগও! বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা পড়ছে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। জরিপ বলছে, প্রতি ১০ পরিবারের ৭টির উদ্বেগ ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নগরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া, চর্মরোগ, পানিবাহিত ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি বস্তি এলাকায় পরিচালিত এক মাঠ জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ পরিবার ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াকে প্রধান স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। চর্মরোগের কথা জানিয়েছে ১৮ শতাংশ, পানিবাহিত রোগের কথা ১০ শতাংশ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের কথা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার।
জরিপে ৫১ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিবার তাপপ্রবাহকে সবচেয়ে বেশি অনুভূত জলবায়ুজনিত চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জলাবদ্ধতার কথা বলেছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ পরিবার। এছাড়া ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পরিবার তিনবারের বেশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার টিন ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করে। ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারকে ভাগাভাগি করে শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়। এসব শৌচাগারের ৮২ শতাংশই ১০ জনের বেশি মানুষ ব্যবহার করে। নিরাপদ পানির সীমিত প্রাপ্যতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের পানিশূন্যতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে পুষ্টি ও পড়াশোনা।
রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনে চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন আয়োজিত নাগরিক সংলাপে জরিপের তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শাহ ইসরাত আজমেরী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, তাপপ্রবাহ ও সংক্রামক রোগ শিশুদের বেশি প্রভাবিত করে। তাই দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, কড়াইল বস্তিতে এক মাসের ব্যবধানে ৩০০ জনের বেশি গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশুকে খুঁজে পাওয়া যায়।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বায়ুদূষণে শিশুদের নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক থেকে তৃতীয় স্তর পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের সুপারিশ করেন বক্তারা। পাশাপাশি বস্তি এলাকায় তাপপ্রবাহ ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা এবং দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের এই ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি