Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 12:50 am

ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে কাজ করছে সরকার

image

সিলেট প্রতিনিধি: শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে।

সেই কমিটির সভাপতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে এবং প্রত্যাশিত মানে সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে চলতে হলে নাগরিক সুবিধা ও সেবার মানও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করতে হবে। সিলেট এমন একটি শহর, যার বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। ফলে এখানকার নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। সিলেটের জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় আধুনিক নাগরিকসেবার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট ও এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সুবিধা ও সেবার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে। এমন একটি শহরে নাগরিকসেবা কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রকল্পের কাজ ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। কারণ এই প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। অনেক সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের প্রাণও দিতে হয়। তাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এই বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।
সিসিক প্রশাসক বলেন, বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা ও আবাসিক স্থাপনাসহ নগর জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্রভাগে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকে প্রাণও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন এই স্টেশন চালু হলে নগরবাসীর জরুরি নিরাপত্তাসেবা আরও শক্তিশালী হবে। নগর প্রশাসন হিসেবে সিলেটের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

—জা.অর্থনীতি/এনজে