Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 08:04 am

সিটি গ্রুপকে খেলাপি না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণকে এখনই খেলাপি ঋণ হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্পগ্রুপটি যাতে তাদের সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা চালাতে গ্রুপটিকে মূলধন জোগান দিতে ঋণদাতা ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি জোট গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণকে খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে এই ঋণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এ অবস্থায় গ্রুপটির ঋণ আপাতত খেলাপি না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


সভায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পক্ষে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের এমডি ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী, সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খানসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সিটি গ্রুপ আগে কখনও খেলাপি হয়নি। এছাড়া গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। এজন্য সবাই চায় গ্রুপটি সমস্যা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াক। সব ব্যাংকই গ্রুপটিকে সহায়তা দিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে, ব্যাংকগুলোকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে, যাতে গ্রুপটি আরও খারাপ হয়ে যায়। সহায়তা পেলে গ্রুপটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল জাতীয় অর্থনীতিতে ‘সিটি গ্রুপের বিশাল ঋণ নিয়ে মুখোমুখি শীর্ষ ব্যাংক এমডিরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জানা যায়, দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। একপক্ষ চায় ঋণ পুনঃতফসিল করে নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ দিয়ে গ্রুপটির ব্যবসা সচল রাখা হোক। অন্যপক্ষের অবস্থান নতুন অর্থায়নের আগে কারখানা ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নিতে হবে। তারা বলছেন, পুরোনো ঋণের সুরাহা না করে নতুন অর্থায়ন করলে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক নতুন করে গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এক ব্যাংকে খেলাপি হলে অন্য ব্যাংক থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। এ কারণে সমস্যায় পড়েছে গ্রুপটি। এ কারণে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যাতে গ্রুপটির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।

সভার বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গ্রুপটিকে স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে নানা পরামর্শ উঠে এসেছে সভায়। গ্রুপটির ব্যবসা যাতে সচল থাকে, ব্যাংকগুলো সে বিষয়ে সচেষ্ট। আমরা সবাই চাই, গ্রুপটি ঘুরে দাঁড়াক।’
এদিকে সভায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাংকের পর্ষদে ঋণখেলাপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে তাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে।

জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যে গ্রুপটির ঋণ নিয়মিত করতে এককালীন কিছু টাকা জমা দেবে সিটি গ্রুপ। এরপর আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রস্তাব পাঠাব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দিলে গ্রুপটি ভালো অবস্থায় পৌঁছাবে।’