Print Date & Time : 27 October 2026 Tuesday 06:37 am

ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে যে ছোট্ট ভুলে লাখ লাখ টাকা গচ্চা যায় (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: কষ্টের জমানো সব টাকা দিয়ে স্বপ্নের বাড়ি কিনছেন, অথচ এক মুহূর্তের ভুলেই সেই পুরো টাকাটাই জলে চলে যেতে পারে! বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় মানুষ যেসব বড় ভুল করে, তার খেসারত দিতে হয় লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিয়ে।

বাড়ি বা জমি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলটি ঘটে ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে। অনেকেই বিক্রেতার কথার ওপর ভরসা করে কেবল কারেন্ট সিএস, এসএ বা আরএস খতিয়ান দেখেই চুক্তি করে ফেলেন। কিন্তু মিউটেশন বা নামজারি, খাজনা রশিদ, বায়না দলিল এবং রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত প্ল্যান সঠিকভাবে পরীক্ষা করেন না। পরবর্তীতে দেখা যায় জমিটি নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে কিংবা আগেই অন্য কারও কাছে বন্ধক রাখা ছিল। এর ফলে ফ্ল্যাট বা জমির দখল পেতে বছরের পর বছর আদালতের চক্কর কাটতে হয় এবং বিপুল অর্থ অপচয় হয়।

 

দ্বিতীয় বড় ভুলটি হলো হিডেন কস্ট বা অপ্রকাশিত খরচের হিসাব না রাখা। বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় আমরা শুধু আসল দামটার কথা ভাবি। কিন্তু রেজিস্ট্রি ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, ইউটিলিটি কানেকশন চার্জ, পার্কিং চার্জ, ট্রান্সফার ফি এবং ইন্টেরিয়রের খরচের মতো হিডেন চার্জগুলো মিলে বাজেটের আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা লেগে যায়। এই হিসাব আগে থেকে না রাখায় অনেকেই কেনাকাটার মাঝপথে এসে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন এবং অতিরিক্ত সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন।

তৃতীয় ভুলটি হয় বিল্ডার বা ডেভেলপার কোম্পানি নির্বাচনের সময়। অনেক ক্রেতাই আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট এবং কম দামের প্রলোভনে পড়ে নতুন বা নামসর্বস্ব ডেভেলপারদের ফ্ল্যাট বুকিং দেন। কিন্তু পরবর্তীতে সঠিক সময়ে হ্যান্ডওভার না দেওয়া, নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমানের কাজ করা কিংবা চুক্তি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট না পেয়ে একদিকে যেমন ব্যাংক ঋণের কিস্তি গুনতে হয়, অন্যদিকে নিজের ভাড়াবাড়িতে থাকার খরচও চালু থাকে—যার ফলে কয়েক লাখ টাকার অতিরিক্ত আর্থিক লোকসান হয়।

তাহলে এই ভুলগুলো থেকে বাঁচার উপায় কী? প্রথমত, যেকোনো জমি বা ফ্ল্যাট কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী দিয়ে সমস্ত জমির সিএস, আরএস, বিএস খতিয়ান এবং মালিকানা পরচা যাচাই করে নিন। দ্বিতীয়ত, আপনার মোট বাজেট থেকে অন্তত ২০ শতাংশ টাকা বাড়তি রাখুন রেজিস্ট্রি ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচের জন্য। আর তৃতীয়ত, ডেভেলপার কোম্পানি কতগুলো প্রজেক্ট সফলভাবে হ্যান্ডওভার করেছে তা সরাসরি সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিন।

স্বপ্নের একটি বাড়ি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর একটি। তাই আবেগ দিয়ে নয়, সঠিক আইনি জ্ঞান ও বিচক্ষণতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, যাতে আপনার কষ্টের টাকা গচ্চা না যায়।

কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে স্বপ্নের বাড়ি কিনছেন? সাবধান! ডকুমেন্টস ঠিকমতো না দেখে চুক্তি করলে পুরো টাকাই জলে যেতে পারে!রেজিস্ট্রি ফি, নামজারি আর ইউটিলিটি খরচের হিসাব না রাখলে বাজেটের বাইরে গিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হবে।
তাই বায়না করার আগে আইনজীবী দিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করুন এবং বিশ্বস্ত ডেভেলপার বেছে নিন—নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা সুরক্ষিত রাখুন!  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি