Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 02:35 am

স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি, চালু হচ্ছে রোবটিক সার্জারি

image

জাতীয় অর্থনীতি ময়মনসিংহ: আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এক দিন বা এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি টেন্ডার আহ্বান করা হবে। দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ এবং হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। একজন চিকিৎসকের যেখানে ৫০ জন রোগী দেখার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে তাকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একটা মৃত্যুর জন্য আমাদের সবারই মন কাঁদে। কিন্তু আমাদের ১৮ কোটি মানুষের জন্য ডাক্তার আছে কয়জন? একটা ডাক্তার ৫০টা রোগী দেখতে পারে, সেখানে ২৫০-৩০০ রোগী দেখতে হয়। হাঁপিয়ে যায়, তখন মাথার মেধা কাজ করে না।’

তবে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকলেও দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবায় গাফিলতি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম কিংবা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দায়িত্ব পালনের রোস্টার সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে না। পাশাপাশি বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকগুলো নির্ধারিত শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় প্রসবকক্ষ না থাকলে, রোগীর চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা দেখা দিলে কিংবা যথাযথ সেবার অভাবে রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কিছু অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ফুলপুর হাসপাতালের শৌচাগারগুলো আগামী দুই দিনের মধ্যে সংস্কার ও পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সেখানে অন্তর্বিভাগের সেবা চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি, মাতৃসেবা ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে।

স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়াতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, উপপরিচালক (পরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. জাকীউল ইসলাম, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

—জা.অর্থনীতি/আরএস