Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 06:00 am

মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন ককরোচ পার্টির দুই শীর্ষ নেতা

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লির যন্তরমন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক না দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাত দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিল্লির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারনামা পেশ করার পর তাঁদের মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে টানা এক সপ্তাহ কারাভোগ করতে হলো এই দুই রাজনৈতিক সংগঠককে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১০ অক্টোবর, যখন নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। তবে ওই দিন কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে কাউকে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেয়নি দিল্লি পুলিশ। উল্টো কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপসহ সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করা হয়। পরদিন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলে পারিবারিক কারণে, বিশেষ করে দাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের পাশে থাকতে বাড়ি চলে যান দলপ্রধান অভিজিৎ।

তবে শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাকি দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা। গত ১৩ অক্টোবর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সরাসরি যন্তরমন্তরে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনপূর্বক পতাকা উত্তোলন করেন। এর পরপরই পুলিশ তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠায়। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১৫ অক্টোবর দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে পুনরায় পতাকা ওড়ানোর ডাক দিয়েছিলেন ফিরে আসা অভিজিৎ দীপ। তবে সেই কর্মসূচিও সফল হতে দেয়নি পুলিশ এবং অভিজিৎকে আটক করে পরদিন ছেড়ে দিলেও সৌরভ ও আশুতোষকে জেলেই আটকে রাখা হয়েছিল।

বুধবার শুনানিকালে দিল্লির আদালত এই দুই নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারক তাঁদের প্রশ্ন করেন, ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার তাঁরা নিতেন কি না। আদালতের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা স্বীকার করেন যে তাঁরা আইন ভঙ্গ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কখনোই যন্তরমন্তরে কোনো ধরনের আন্দোলনের ডাক দেবেন না বলে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। এরপরই আদালত তাঁদের মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।