Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 03:02 am

সিবিসি ক্যাপিটালসহ পাঁচ পক্ষকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বাড়াতে সংঘবদ্ধ কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ ঘটনায় মার্চেন্ট ব্যাংক সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডসহ পাঁচ পক্ষকে মোট ৩৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কয়েকটি বিও হিসাব ব্যবহার করে লাভেলোর মোট শেয়ার লেনদেনের ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। এ সময় প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার শেয়ার নিয়ে ১৩টি সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারটির দর বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লাভেলোর শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে ডিএসই। এ সময়ে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ এক মাসের কিছু বেশি সময়ে শেয়ারটির দর বাড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ। তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে শেয়ারের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি ও দর বাড়ানোর তথ্য উঠে আসে।

তদন্তে সিবিসি ক্যাপিটালের পাশাপাশি লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মালিক ঝুয়াং লিফেংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিও হিসাবের যোগসূত্র পাওয়া যায়। এসব হিসাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইসিপিএফ), প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান এইচ এম রুবাইয়াত, তার স্ত্রী শায়লা আক্তার এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্ল্যানিং) রাজন কুমার সাহা।

বিএসইসির আদেশে লিজ ফ্যাশন ইসিপিএফকে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, সিবিসি ক্যাপিটালকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এইচ এম রুবাইয়াতকে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, শায়লা আক্তারকে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ডিএসইর তদন্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ১৩টি ম্যাচড বা সার্কুলার লেনদেনের মাধ্যমে ৯ লাখ ৬৭ হাজার ১২৫টি শেয়ার কেনাবেচা করে। এ ধরনের লেনদেনে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ও চাহিদা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাস্তবায়িত মূলধনি মুনাফা এবং ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবাস্তবায়িত মূলধনি মুনাফা হয়েছে। বাস্তবায়িত মুনাফা হলো শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত লাভ। অন্যদিকে অবাস্তবায়িত মুনাফা হলো হাতে থাকা শেয়ারের বাজারদর বাড়ায় হিসাব অনুযায়ী অর্জিত লাভ, যা শেয়ার বিক্রি না করা পর্যন্ত নিশ্চিত হয় না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জরিমানা করেছে বিএসইসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি, শেয়ারদর বাড়ানো এবং এর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায় রয়েছে।

তবে শুনানিতে অভিযুক্ত পক্ষগুলো নিজেদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে। তাদের কেউ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মার্চেন্ট ব্যাংকের ওপর দেওয়ার কথা জানান। আবার কেউ সিকিউরিটিজ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার যুক্তি দেখান।

সিবিসি ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ দাবি করে, প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন প্রধান নির্বাহীর অননুমোদিত পদক্ষেপের কারণে এসব লেনদেন হয়েছিল। ওই প্রধান নির্বাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এসব যুক্তি গ্রহণ করেনি বিএসইসি। কমিশনের মতে, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া কিংবা আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা দেখিয়ে হিসাবধারী বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার দায় এড়াতে পারে না।

বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে কমিশনের অনুকূলে জমা দিতে হবে।