Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 03:09 am

ঋণখেলাপি বাকেরকে ভোটের সুযোগ

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দুই ব্যাংকে ঋণখেলাপি প্রায় ২০৯ কোটি টাকা। ঋণখেলাপির দায়ে মামলা হয়েছে। রয়েছে ভ্যাট-কর ও শুল্ক ফাঁকির সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ। এছাড়া রয়েছে ফৌজদারি মামলা। এসব অভিযোগের সুর্নিদিষ্ট প্রমাণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। সেজন্য বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী ফারদিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাকের হোসেনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। এমনকি মো. বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে নির্বাচনের ব্যালট দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজী মো. সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচনে মো. বাকের হোসেনকে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বাকের ঋণখেলাপি, ভ্যাট-কর ও শুল্ক ফাঁকিবাজ। বাকের ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা ও সংগঠনের নিয়মের বাইরে গিয়ে মো. বাকের হোসেনকে মো. সালাহউদ্দিন সুবিধা দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করায় সংগঠন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

সূত্রমতে, আগামী ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মো. বাকের হোসেন সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন। তবে বাকের হোসেন তথা ফারদিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান স্টার ইউপিভিসি পাইপ ও স্টার পাইপ এন্ড প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট-কর ও শুল্ক ফাঁকি, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুইটি প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ঋণখেলাপি হয়েছে। মো. বাকের হোসেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে, ভ্যাট-আয়কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সংগঠনের নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না।

সংগঠনের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন, মো. বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, ভ্যাট-কর ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ এবং মামলার প্রমাণ থাকার পরও নির্বাচনি বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি মন্ত্রণালয় এসব প্রতিবেদন যাচাই ও মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর পর নির্বাচন আয়োজন করতে বলা হলেও তা নির্বাচনি বোর্ডের চেয়ারম্যান মানেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে মো. সালাহউদ্দিন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মো. বাকের হোসেনকে ব্যালট দিয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রমাণসহ চিঠি দেওয়ার পরও নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. বাকের হোসেনকে নির্বাচনি বোর্ডে ব্যালট দেওয়ায় সমিতির এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সংগঠনের ১ হাজার ২০০ ভোটারের মধ্যে ৭০০ ভুয়া ভোটার রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। 

সমিতির সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করায় সংগঠনের নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একজন ঋণখেলাপি, মামলার আসামি ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তির জন্য সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে না। মো. সালাউদ্দিন নির্বাচনি বোর্ডকে অপসারণ করে প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা।