Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:46 am

এআই কি বাংলাদেশের তরুণদের চাকরি কাড়তে পারবে? (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: এআই বাংলাদেশের চাকরি খাবে, নাকি নতুন চাকরি তৈরি করবে? উত্তরটা নির্ভর করছে কাজের ধরনের ওপর। একই নিয়ম বারবার অনুসরণ করা কাজগুলোতে এআই-এর প্রভাব বেশি হতে পারে। কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, সমস্যা সমাধান এবং প্রযুক্তি পরিচালনার প্রয়োজন থাকবে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ওয়ার্কফোর্স এর জন্য তাই এআই একটি বড় সুযোগও হতে পারে। যে তরুণ শুধু নিজের পুরোনো দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে, সে পিছিয়ে পড়তে পারে। আর যে এআই-কে নিজের কাজের হাতিয়ার বানাবে, তার আয় ও কাজের সুযোগ বরং বাড়তে পারে।

 

যে কাজগুলো বারবার একই নিয়মে করতে হয়, সেগুলো এআই ও অটোমেশন-এর মাধ্যমে দ্রুত বদলে যেতে পারে। কিন্তু একই প্রযুক্তি আবার তৈরি করছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কাজ ও পেশা। তাহলে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এআই কি চাকরি কেড়ে নেওয়ার প্রযুক্তি, নাকি বেশি আয়ের নতুন দরজা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন সামনে আসছে ভবিষ্যতে মানুষের চাকরি কি এআই নিয়ে নেবে?

প্রশ্নটি বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। তাদের জন্য এআই যেমন বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে, তেমনি কিছু প্রচলিত কাজের ধরনও বদলে দিতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কাজগুলো সাধারণত পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নিয়মভিত্তিক।

যেমন গ্রাহকসেবা, তথ্য প্রবেশ করানো, সাধারণ হিসাবরক্ষণ, প্রাথমিক অনুবাদ, নির্দিষ্ট ধরনের নকশা তৈরি কিংবা প্রোগ্রামিংয়ের কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ।

আগে এসব কাজ করতে মানুষের কয়েক ঘণ্টা লাগত। এখন একটি এআই ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে একই ধরনের কাজের বড় অংশ করে দিতে পারে।

এআই শুধু চাকরি কমাচ্ছে না, নতুন কাজও তৈরি করছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, এআই মডেল যাচাই, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনা এবং এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভবিষ্যৎ চাকরি বিষয়ক বিশ্লেষণেও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে কিছু কাজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের কাজ তৈরির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এআই-এর প্রভাবকে শুধু ‘চাকরি যাবে’ বনাম ‘চাকরি থাকবে’ এই দুই ভাগে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না।

আসল পরিবর্তনটা হতে পারে কাজের ধরনে। একজন হিসাবরক্ষক হয়তো আর প্রতিদিন একই ধরনের তথ্য হাতে বসিয়ে হিসাব করবেন না। এআই সেই কাজের একটি অংশ করে দিতে পারে। কিন্তু সেই কর্মীকে তখন তথ্য যাচাই, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে বেশি ভূমিকা রাখতে হতে পারে।

একইভাবে একজন ডিজাইনারের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। বরং এআই ব্যবহার করে দ্রুত ধারণা তৈরি, নকশার বিভিন্ন সংস্করণ পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় সুযোগ। দেশের তরুণ ওয়ার্কফোর্স যদি শুধু প্রচলিত চাকরির জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে এআই ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ধরা যাক, একজন বাংলাদেশি কর্মী আগে শুধু তথ্য প্রবেশের কাজ করতেন। এআই শেখার পর তিনি তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনা কিংবা ব্যবসায়িক সফটওয়্যার ব্যবহারের কাজ করতে পারেন। একই মানুষ তখন কম মূল্যমানের কাজ থেকে বেশি মূল্যমানের কাজে যেতে পারেন।

কিন্তু এই পরিবর্তন নিজে নিজে হবে না। প্রয়োজন হবে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং বাস্তব কাজের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষতা উন্নয়ন।

কারণ এআই ব্যবহারের যুগে সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়তো শুধু ডিগ্রি নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি কত দ্রুত শেখা ও কাজে লাগানো যায় সেই ক্ষমতা।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য নীতিগত চ্যালেঞ্জ। এআই যদি কিছু কাজের চাহিদা কমিয়ে দেয়, তাহলে সেই কর্মীদের নতুন দক্ষতায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষায় এআই লিটেরেসি, তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাহলে এআই বাংলাদেশের জন্য চাকরি ধ্বংসের গল্প না হয়ে উৎপাদনশীলতা ও আয়ের গল্প হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা হয়তো হবে না এআই মানুষের চাকরি খাবে কি না।

প্রশ্ন হবে-এআই ব্যবহার করতে পারে এমন মানুষ কি এআই ব্যবহার করতে না-পারা মানুষের জায়গা নেবে?

বাংলাদেশের তরুণরা এআই-এর কারণে চাকরি হারাবে, নাকি এআই ব্যবহার করে বেশি আয় করবে তার বড় অংশই নির্ভর করবে তারা কত দ্রুত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে তার ওপর।

এআই চাকরি নেবে, নাকি নতুন চাকরি দেবে?

এআই-এর কারণে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসতে পারে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে। গ্রাহকসেবা, তথ্য প্রবেশ, সাধারণ হিসাবরক্ষণ, অনুবাদ, নকশা কিংবা প্রোগ্রামিংয়ের কিছু কাজ এআই দ্রুত করতে পারছে। কিন্তু একই সময়ে তৈরি হচ্ছে নতুন কাজ এআই পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, মডেল যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা। তাই এআই শুধু চাকরি কমাবে না, চাকরির ধরনও বদলে দেবে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো-তারা কি নতুন কাজের জন্য সময়মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারবে?

—জা. অর্থনীতি/এলএটি