আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মৃত্যু হয়েছে ভেবে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কেনা হয়েছিল কফিন, খোঁড়া হয়েছিল কবরও। কিন্তু শেষ বিদায়ের মুহূর্তে কফিনের ভেতর নড়াচড়া দেখে চমকে ওঠেন মা। খুলে দেখা যায়, মৃত ভেবে রাখা ১৫ বছরের মেয়েটি তখনো জীবিত। মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর গুয়াতেমালার এল জোকোটে এলাকায়। ইউলেইদি ইক্সকোটোয়াক নামের ওই কিশোরী ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং বুক ভারী লাগছিল বলে বাবাকে জানায় সে। মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দেন বাবা আব্রাহাম ইক্সকোটোয়াক ডোজিন।
তবে পথেই ইউলেইদি অচেতন হয়ে পড়ে। বাবার দাবি, সান পেদ্রো জোকোপিলাস এলাকায় পৌঁছানোর পর মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ির স্পন্দন অনুভব করতে পারেননি তিনি। এতে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন আব্রাহাম। কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত না করেই তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করেন।
প্রায় আট ঘণ্টা পর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউলেইদির মা লেসভিয়ার চোখে পড়ে, ভেতরে কিছু একটা নড়ছে। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পারলেও পরে কফিন খুলে দেখেন, মেয়ের জ্ঞান ফিরেছে। দ্রুত তাকে কফিন থেকে বের করা হয়। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর ইউলেইদি পানি খেতে চায়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউলেইদি জানিয়েছে, বুকের ব্যথা ও ভারী অনুভূতির পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর কী ঘটেছিল, তা তার মনে নেই। মেয়েকে ফিরে পেয়ে বাবা আব্রাহাম ঘটনাটিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। তবে কেন কিশোরীটি অচেতন হয়েছিল এবং কীভাবে তার জ্ঞান ফিরেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
জা.অর্থনীতি/এসআই