Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 08:49 am

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়তি লাগবে ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা

image

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: এমপিওভুক্ত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে বেতন ও ভাতা বাবদ লাগবে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা ব্যয় হবে পেনশন খাতে। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার গত জুলাই মাস থেকে চার ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন শুরু করায় সরকারি কর্মচারীরা চলতি মাসেই সংশোধিত বেতন ও বকেয়া পাবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য এই সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা এখনো অনিশ্চিত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালেও এমপিওভুক্ত কর্মীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে ছয় মাস সময় লেগেছিল।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সুবিধা চালুর জন্য অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয়ই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

বর্তমানে সরকার এমপিওভুক্ত জনবলের পেছনে বার্ষিক ১৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য ১২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

মাসিক পে-অর্ডার (এমপিও) ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকারি অনুদানের মাধ্যমে মূল বেতনের শতভাগ এবং এর সঙ্গে চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন।

গত বছর তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করা হয়।

আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক বা সম্মানী দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই সেই সামর্থ্য নেই।

নতুন যে বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বিদ্যমান গ্রেড, স্তর ও বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরি অনুযায়ী মূল বেতন এবং বাড়ি ভাড়া বাড়বে।

পে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কর্মীরা প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী না হওয়ায় তারা কমিশনের আওতাভুক্ত নন। তবে বেসরকারি শিক্ষা খাতের পরিধি বিবেচনা করে তাদের বেতন কাঠামো নিয়ে ভাবার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, যেহেতু এমপিওভুক্ত কর্মীদের জন্য নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেহেতু আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বর্তমানে দেশে ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষক এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।

—জা.অর্থনীতি/আরএস