Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:18 am

ঘুমিয়েও কেন সকালে ক্লান্ত লাগে (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার কেমন লাগছিল? খুব সতেজ, নাকি মনে হচ্ছিল শরীরটা যেন আর বিছানা ছাড়তেই চাইছে না? অ্যালার্ম বন্ধ করে আরও কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সেই চেনা চেষ্টা! পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে নিঃশেষ আর ক্লান্ত মনে হয়, তবে জেনে রাখুন-সমস্যাটা আপনার অলসতা নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো কারণ। কেন ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে চোখ লাল হয়ে থাকে আর শরীর ভেঙে আসে?

প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে ‌‘স্লিপ ইনার্শিয়া’ বা ঘুম ভাঙার পরের জড়তার কথা। গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলে কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় হতে পারে না। এই সময়ে কিছুটা ঘুমঘুম ভাব, মাথা ভার লাগা কিংবা সামান্য সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত ঘুম ভাঙার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই একটু অস্বস্তি হওয়া মানেই বড় কোনো অসুস্থতা নয়।

কিন্তু সমস্যাটা যখন প্রতিদিনের, তখন ভেবে দেখতে হবে আপনার ঘুমের অভ্যাস বা জীবনযাপন নিয়ে। আপনার ঘরের পরিবেশ কি ঠিক আছে? শোয়ার ঘর অতিরিক্ত গরম, আলো বা শব্দযুক্ত হওয়া কিংবা অস্বস্তিকর বালিশ-বিছানা কিন্তু ঘুমের বড় শত্রু। এছাড়া সবচেয়ে বড় ভুলটি আমরা করি ঘুমানোর আগে। বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নীল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা ঘুমের হরমোন ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটালেও ঘুম গভীর হয় না।

আপনার খাবারের অভ্যাসেও লুকিয়ে থাকতে পারে ক্লান্তির রহস্য। রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ঝাল, তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার খেলে হজমের সমস্যা হয়, যা বারবার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ ঘুম আসতে দেরি করায়। আবার ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি পানি পান করলেও রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়, যা ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও কিন্তু সকালের ক্লান্তির অন্যতম কারণ। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ঘুমের মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে খেয়াল রাখবেন, ঘুমানোর ঠিক আগে খুব ভারী ব্যায়াম করা যাবে না। দিনের অন্য সময়ে হালকা হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস ঘুমাতে সাহায্য করে।

ঘুমের পরিবেশ এবং অভ্যাস ঠিক থাকার পরও যদি প্রতিদিন সকালে ক্লান্ত লাগে, তবে দেখতে হবে কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা আছে কি না। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এই সমস্যায় ঘুমের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠা, সকালে মুখ শুকিয়ে থাকা কিংবা মাথাব্যথা থাকা এর লক্ষণ।

এর বাইরে রক্তস্বল্পতা বা শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলেও সারা দিন দুর্বলতার পাশাপাশি সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগতে পারে। সাথে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।

মানসিক স্বাস্থ্যও কম দায়ী নয়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ রাতে মনকে শান্ত হতে দেয় না। ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যায় এবং সকালে শরীর ও মন কোনোটিই সতেজ লাগে না।

তাহলে উপায় কি? সকালে সতেজ হয়ে উঠতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং উঠুন। দিনের বেলা ২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ করুন। শোয়ার ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন। রাতের বেলা ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন এবং দিনে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে ক্লান্তি?

প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও কি সকালে উঠে শরীর ভেঙে আসে? আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার শরীর দুর্বল, কিন্তু আসল অপরাধী আপনার হাতের ওই স্মার্টফোনটা! ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিনের নীল আলো আপনার মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন তৈরি বন্ধ করে দেয়। ফলে আপনি ঘুমালেও আপনার মস্তিষ্ক সারারাত জেগে থাকে। কাল থেকেই ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখুন, পরিবর্তন আপনি নিজেই দেখতে পাবেন!

সকালে উঠে ক্লান্ত লাগা অলসতা নয়, হতে পারে মরণব্যাধি!

সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর বিছানা ছাড়তে চাইছে না? একে অলসতা ভেবে ভুল করবেন না! এটি হতে পারে 'স্লিপ অ্যাপনিয়া' নামের এক মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ, যেখানে ঘুমের মধ্যে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। রাতে জোরে নাক ডাকা, সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া আর মাথা ব্যাথা করা এর প্রধান লক্ষণ। এমনটা হলে আজই ডাক্তার দেখান, নয়তো বাড়তে পারে বড় বিপদ!  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি