জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
সড়কে চলছে লাখ লাখ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন! কোনোটি ফিটনেসের মেয়াদ হারিয়েছে, কোনোটির ফিটনেস ইকনোমিক লাইফ শেষ হয়েছে । বিআরটিএর তথ্যমতে, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ। এর মধ্যে সাড়ে ফিটনেস নেই ৬ লাখের বেশি যানবাহনের।
বিআরটিএর তথ্যমতে, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ২৪ লাখ, আর ঢাকার বাইরে ৪০ লাখের মতো। দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল প্রায় ৫১ লাখ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ৬ লাখের মতো। এসব মোটরযানের প্রায় সাড়ে ৬ লাখের ফিটনেস ইকনোমিক লাইফ শেষ হয়ে গেছে। আর প্রায় ৩০ হাজার বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ। মেয়াদ ফুরিয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরির।
চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নিবন্ধিত বাস-মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার, আর মহানগরীর বাইরে ৩২ হাজারের মতো। প্রায় ৪৭ হাজার বাস-মিনিবাসের বয়স ২০ বছরের নিচে। ২০ বছরের ঊর্ধ্বে বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-মিনিবাস রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১১ হাজারের মতো, আর ঢাকার বাইরে ১৯ হাজার। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ আরও অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান রয়েছে, তবে এর পরিসংখ্যান দিতে পারেনি বিআরটিএ।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফিটনেসহীন ৬ লাখ যানবাহনের তালিকা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান জানান, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে সড়কের নিরাপত্তা ও যান ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অবৈধ রিকশার চার্জিং লোকেশন এবং খুচরা যন্ত্রাংশের সাপ্লাই চেইন সীমিত করে অবৈধ ব্যাটারি রিকশার চলাচলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআরটিএর সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া সব বাণিজ্যিক গাড়ির ফিটনেস সনদের মেয়াদ এক বছর। জিপসহ ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দুই বছর। যেকোনো গাড়ির ফিটনেস দেওয়ার সময় ৫৯টি বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এসব বিষয় যাচাই করলে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ গাড়ি সড়কে চলাচলের উপযোগী নয় বলে প্রমাণিত হবে।
ফিটনেস পরীক্ষায় গাড়ির পরিচয়, ইঞ্জিন, চালকের আসন, বডি ও জানালার নিরাপত্তা, ধোঁয়া নির্গমন, চাকা ও টায়ার, ব্রেক, স্টিয়ারিং, চ্যাসিস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সাসপেনশন, লাইট, দিকনির্দেশক, প্রতিফলক এবং ট্যাক্সি মিটারসহ মোট ৫৯টি বিষয় দেখা হয়। তবে ফিটনেস দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিষয়গুলো অবশ্যই পরীক্ষা করা হয় বলে জানান বিআরটিএ কর্মকর্তারা।
ঢাকা শহরে আধুনিক ও সংগঠিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশে গুটিকয়েক কোম্পানিকে গণপরিবহনের লাইসেন্স দিতে হবে। এজন্য বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু করতে হবে। এটা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন শুধু সড়কের শৃঙ্খলাই নষ্ট করে না, বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। তাই নিয়মিত পরীক্ষা, কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশ্ন হলো, এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে?
—জা. অর্থনীতি/এলএটি