জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। এসময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত দেশে কার্যরত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগ করা আয় বৃদ্ধির কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পুনর্বিনিয়োগ করা আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ কমেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে নিট ইকুইটি বিনিয়োগ হয়েছে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে, নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এ খাতে মোট ৩৩৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ কমেছে।
বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চাপ তৈরি করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা আবার বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রবণতাই সামগ্রিক এফডিআই প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।
তিনি জানান, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নাহিয়ান রহমান রচি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আরও বেশি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাও আশাব্যঞ্জক। সংস্থাটির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে কাজ চলছে।
তবে সংস্থাটি জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। কিন্তু আগের প্রান্তিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক প্রান্তিকের ব্যবধানে বিনিয়োগ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে কাজ করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করাও তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে বিলম্বিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
তিনি জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত অর্জন এবং বাকি কাজের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, চালু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে কাজ অব্যাহত থাকবে।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি