Print Date & Time : 13 October 2026 Tuesday 09:05 pm

জ্বালানি আমদানিতে সরকারের বড় ঋণ পরিকল্পনা

image

অনলাইন ডেস্ক: জ্বালানির দাম বাড়ছে, বাড়ছে আমদানির খরচ। আর সেই খরচ সামলাতে এবার কঠিন শর্তে ৩১০ কোটি ডলার ঋণ নিতে চায় সরকার। মাত্র ছয় মাসের এই ঋণেই গুনতে হবে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ।

জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) কাছ থেকে ৩১০ কোটি ডলার ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। আইডিবির অধীন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) দেবে এই ঋণ।

এর মধ্যে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয় হবে জ্বালানি তেল এবং ৬০ কোটি ডলার এলএনজি আমদানিতে। ঋণের মেয়াদ প্রতিটি অর্থ ছাড়ের তারিখ থেকে মাত্র ছয় মাস।

সুদের হার ছয় মাস মেয়াদি টার্ম এসওএফআর-এর সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হবে। ১ অক্টোবরের হিসাবে নির্দেশক সুদের হার ৫ দশমিক ৩৭৭৬৫ শতাংশ। এর সঙ্গে দিতে হবে বার্ষিক শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ প্রশাসনিক ফি।

ঋণ পরিশোধ হবে ‘বুলেট’ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ মেয়াদে শুধু সুদ পরিশোধ করতে হবে, আর ছয় মাস শেষে একসঙ্গে দিতে হবে পুরো মূল টাকা। নেই গ্রেস পিরিয়ড বা অনুদান সুবিধা।

ঋণের ৬০ কোটি ডলার দেবে আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।

ঋণটি অনমনীয় হওয়ায় চুক্তি সইয়ের আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক রাখা ও জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।
 
বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়নে এডিবি থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টে’ এই অর্থ ব্যয় হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৪ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

ঋণের সুদের হার এসওএফআর + শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। মেয়াদ ২৫ বছর, গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। রয়েছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম ও বার্ষিক শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ। ১ অক্টোবরের ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এসওএফআর অনুযায়ী গ্রান্ট এলিমেন্ট ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হওয়ায় এটি অনমনীয় ঋণ।

অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুলাই ২০৩১ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। ঢাকা মহানগরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় বিতরণব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো হবে। ঋণ আলোচনা শেষ হয়েছে, এখন একনেক ও এডিবির বোর্ড অনুমোদনের অপেক্ষায়।

অনমনীয় ঋণের ক্ষেত্রে নিজস্ব আয় থেকে পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনা, ডাউন পেমেন্ট ও শর্তযুক্ত ঋণ নিরুৎসাহিত এবং ঋণ পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয় বা রাজস্ব আয়ের নির্দিষ্ট সীমায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। মোট অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের স্থিতি জিডিপির ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
 
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন বিঘ্নে এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহও ব্যাহত হওয়ায় বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এলএনজি আমদানিতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।

আইইএ বলছে, হরমুজ সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিল। এর মধ্যেই জ্বালানি আমদানিতে আইটিএফসি থেকে ৩১০ কোটি ডলার ঋণের প্রস্তাব রয়েছে-২৫০ কোটি ডলার জ্বালানি তেল ও ৬০ কোটি ডলার এলএনজির জন্য।

তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণ হয়তো তাৎক্ষণিক সমাধান দেবে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ঋণের বোঝা আর আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা-দুটিই সামনে রাখছে নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি