ক্রীড়া প্রতিবেদক: আবুধাবিতে বাংলাদেশের টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে আরেক লড়াই। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান মাঠে নামবে ৯ অক্টোবর, কিন্তু তার আগে বাংলাদেশকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে মরুর উত্তাপের সঙ্গে! ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির কয়েক ঘণ্টার ম্যাচ নয়, এবার পাঁচদিনের টেস্ট। দিনের বড় একটা সময় মাঠে থাকতে হবে, আর সেই দীর্ঘ পরীক্ষায় বাংলাদেশের পেসারদের জন্য গরম হয়ে উঠতে পারে বড় বাধা।
এই চ্যালেঞ্জটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন পেসাররা। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বোলিং করলে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে কমে যেতে পারে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানও। ফল হিসেবে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা কিংবা পেশিতে টান। তাই ম্যাচের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেভাগেই প্রস্তুত করছেন এবাদত হোসেন।
এবাদত যেমনটা বলেন, ‘এখানে অনেক গরম। তাই ম্যাচের দুইদিন আগে থেকেই আমার প্রস্তুতি শুরু হয়। হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করি, প্রচুর পানি ও তরল পান করি। নারকেলের পানি ও ফলও খাই। এই গরমে অনেক ঘাম হয়। ম্যাচের দিন যদি শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, তাহলে ক্র্যাম্প হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শরীরেও অনেক ক্র্যাম্প হয়।’
দুবাইয়ে অনুশীলন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে গরমের তীব্রতা বুঝে নিয়েছেন। প্রায় ৪৫ ডিগ্রি অনুভূত তাপমাত্রায় অনুশীলন করার পর এখন আবুধাবির টেস্টের জন্য শরীরকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করাই লক্ষ্য।
টেস্ট ক্রিকেটে শুধু এক-দুই স্পেল ভালো বোলিং করলেই কাজ শেষ নয়। একই দিনে একাধিকবার বল হাতে নিতে হতে পারে পেসারদের। পাঁচদিনের ম্যাচে সেই ধকল সামলানোর জন্য শরীরকে কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন এবাদত, ‘এই গরমে আপনি অনেকক্ষণ বোলিং করতে পারবেন না। আসলে বিষয়টা হলো প্রস্তুতি এবং কীভাবে আমি নিজেকে এই গরমের জন্য প্রস্তুত করছি। তাই টেস্ট ম্যাচ হলে, বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে, আমার ম্যাচ প্রস্তুতি দুইদিন আগেই শুরু হয়ে যায়।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। তবে সেটি মূলত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে, যার বেশিরভাগই ছিল দিবারাত্রির ম্যাচ। এবার প্রথমবারের মতো আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। তাই দিনের প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ম্যাচের প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে ভিন্নভাবে।
আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে শুধু জাতীয় দলের জন্য নয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবাদত, ‘যারা এখানে আসবে, আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল কিংবা কখনও ইমার্জিং দল-তাদের জন্য আগে থেকেই এখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জানা ভালো। শুনেছি জুন-জুলাইয়ে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। আমাদের দেশ থেকে যারা আসে, তাদের জন্য এটা অনেক বেশি। তাই এখানকার কন্ডিশন, আর্দ্রতা এবং কতটা গরম-এসব আগে থেকে জানা দরকার।’
নিজের ক্ষেত্রেও কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে আলাদা কিছু অভ্যাস অনুসরণ করেন এবাদত। অনুশীলনের প্রথম দিনে খালি পায়ে মাঠে হাঁটার কথাও জানিয়েছেন তিনি, ‘আর্দ্রতা কেমন, গরম কেমন, এগুলো আগে থেকেই জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আসার পর আমি যেটা করি, প্রথম যেদিন অনুশীলন করি, তখন খালি পায়ে প্রায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটি।’
কেন এমন করেন, সেটিও পরিষ্কার করেছেন তিনি, ‘মাঠের সঙ্গে যেন একটা সংযোগ তৈরি হয়। এতে মাটির সঙ্গে মানুষের শরীরের যে সংযোগ, সেটা খুব ভালো হয়। শরীর এই আবহাওয়ার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। এখানে এসে জুতা ছাড়া খালি পায়ে আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটলে শরীর এই আবহাওয়া, এই গরমের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বড় অংশ এখন শরীরকে সতেজ রাখাকে ঘিরে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের সামনে তাই লড়াইটা দুই স্তরে। একদিকে ব্যাট-বলের হিসাব, অন্যদিকে আবুধাবির উত্তাপ। ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে ক্রিকেট; কিন্তু সেই ক্রিকেটে নিজেদের সেরাটা দিতে হলে আগে শরীরকে জিততে হবে মরুর গরমের সঙ্গে!