Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 06:29 am

ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই: দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ

image

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ব্রিজ। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটির দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিকলী সদর ইউনিয়নের চামারটুলা-সিতারামপুরের মংলা বাড়ির খালের ওপর সিদ্দিকের বাড়ির পাশে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৪ টাকা ৩০ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল রাজিব ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শাহাদাৎ হোসেন (রাজিব)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে হেঁটে চলাচল করা গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে যায়। বর্ষায় পানিতে চলাচলের পথ তলিয়ে গেলে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হওয়ার সময় কাদাপানিতে পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা মৃত্যুর পর মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারজাত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়ছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ব্রিজটি নির্মাণের পরও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।”

আরেক বাসিন্দা বলেন, “আমরা বড় কোনো দাবি করছি না। শুধু একটি ভালো ও চলাচলযোগ্য সংযোগ সড়ক চাই। রাস্তা নির্মাণ করা হলে ব্রিজটি এলাকার মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে উপকারী হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে দ্রুত ব্রিজটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি বর্ষায় যাতে সড়কটি পানিতে তলিয়ে না যায়, সে জন্য উঁচু ও টেকসই সড়ক নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ব্রিজটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নির্মিত ব্রিজটির পূর্ণ সুফল পাবেন চার গ্রামের মানুষ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি