অনলাইন ডেস্ক: এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গ্রে-হাউন্ড কুকুরের আনাগোনা থাকলেও, বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে।
সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুরের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। স্থানীয়ভাবে এটি 'সরাইলের কুকুর' নামেই পরিচিত। দৈহিক গঠন ও আচার-আচরণে অন্য যেকোনো জাতের কুকুর থেকে এটি একেবারেই আলাদা।
প্রচলিত আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে তৎকালীন জমিদার দেওয়ান মজতুবা আলী একজন ব্রিটিশ নাগরিকের কাছ থেকে চতুর ও চৌকস এই কুকুর সংগ্রহ করেন। আশির দশক পর্যন্ত সরাইলজুড়ে এই কুকুরের প্রাচুর্য ছিল।
চৌকস অনুভূতি, সাহস ও বিশেষ রণকৌশলের জন্য খ্যাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও আর্থিক সঙ্কটে হারিয়ে যেতে বসেছে এই বিরল প্রজাতির প্রাণীটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে অনেক পরিবার এই কুকুর পালনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন শুধু নোয়াগাঁও গ্রামের দুটি পরিবার পূর্ব-পুরুষদের এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। খাবার ও ওষুধসহ অন্যান্য খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে ধারদেনা ও ছানা বিক্রি করে কোনোমতে ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তারা।
প্রতিটি কুকুরের পেছনে প্রতিদিন খাবার খরচ হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি জোড়া ছানা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায়।
বিলুপ্তপ্রায় এই বিশেষ প্রজাতির কুকুর সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
অ্যাস্টন: মো. হাবিবুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সংরক্ষণে দ্রুত প্রজনন কেন্দ্র স্থাপনসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সরাইলের এই শতবর্ষী ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ও প্রাণিপ্রেমীদের।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি