Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:58 am

বিদ্যুতের পাইকারি দাম কমে ৮ টাকা ১৮ পয়সা

image

অনলাইন ডেস্ক: বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে একদিনেই এলো বড় পরিবর্তন। কম আয়ের গ্রাহকদের জন্য খুচরা দাম না বাড়িয়ে এবার বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান সামাল দিতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম কমানো হলো ২১ পয়সা। বিতরণ কোম্পানির লোকসান বন্ধে বাল্ক বিদ্যুতের দাম হ্রাস ২১ পয়সা। 

ভর্তুকি কমাতে গত ১ জুন থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) । ৩ জুন বাল্ক দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়। তবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাল্ক দাম ২১ পয়সা কমিয়ে ৮ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।

৩ জুনের আদেশে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) ৫ টাকা ২৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট) ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল। তবে ৪ জুন আগের দাম বহাল থাকে- যথাক্রমে ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও ৫ টাকা ২৬ পয়সা।

পিডিবি, আরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো দাম পুনর্বহালের আবেদন করে। আরইবি জানায়, এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রায় ১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে। ৩৩ কেভি পর্যায়ে বাল্ক দাম ৭ দশমিক ৩৯৫৫ টাকা/ইউনিট থেকে ৭ দশমিক ০৯০০ টাকা/ইউনিট করার প্রস্তাব দেয় তারা।

৪ জুন শুনানির পর নতুন মূল্যহার জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়। খুচরা মূল্যহার ভারিত গড়ে পিডিবির ১১ টাকা ১৪ পয়সা, আরইবির ৯ টাকা ৬৪ পয়সা, ডিপিডিসির ১১ টাকা ৮৯ পয়সা, ডেসকোর ১২ টাকা শূন্য ৫ পয়সা, ওজোপাডিকোর ১০ টাকা ৪৪ পয়সা এবং নেসকোর ১০ টাকা ৪৫ পয়সা  নির্ধারণ করা হয়।

বাল্ক দাম গড়ে ২১ পয়সা কমে ৮ টাকা ১৮ পয়সা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল ৭ টাকা শূন্য ৪ পয়সা। সর্বশেষ হিসাবে দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ৩ জুনের ট্যারিফ কার্যকর হলে পিডিবির ভর্তুকি লাগত বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। ২১ পয়সা সমন্বয়ের পর সেই চাহিদা ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে খুচরা দাম আগের জায়গায় রাখা হয়েছে। সেই ঘাটতি সামলাতে কমেছে বাল্ক দাম। কিন্তু ভর্তুকির চাহিদা ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলে বিদ্যুৎ খাতের এই মূল্য সমন্বয়ের চূড়ান্ত খরচটা যাবে কোথায়- সেদিকেই এখন নজর।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি