Print Date & Time : 14 October 2026 Wednesday 09:14 am

অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ এক পরিবারের ৪ জনই নিহত

image

জামালপুর প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারানো ৭ জনের মধ্যে ৫ জনেরই বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে। নিহতদের চারজনই একই পরিবারের সদস্য, যার মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু রয়েছে। 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এ দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ আরোহী নিহত

নিহত একই পরিবারের সদস্যরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার শিশুসন্তান মিনাল (৫)। একই দুর্ঘটনায় মারা যান ওই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সুজন আলী।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মা, বিবাহিত মেয়ে ও নাতিকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামে আসেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা নান্দিনা থেকে অটোরিকশায় ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু পথিমধ্যে ময়মনসিংহ বাইপাস সড়কের গণ্ডপা এলাকায় যাত্রীবাহী 'রাজীব পরিবহন'-এর বাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার ভেতরেই তাঁদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত মর্জিনা বেগম দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একসঙ্গে একই পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। নিহত লেবুর স্বজন ইসমতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "লেবু ভাই সবাইকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল, পুরো পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল।"

এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা জানান, "রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চালকদের কারণে এই রুটে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। একই পরিবারের চারজনসহ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে পড়ার পেছনে দায়ী বাসচালক ও বাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

স্থানীয় তথ্যমতে, গত ২০ মাসে 'রাজীব পরিবহন'-এর বিভিন্ন বাসের বেপরোয়া গতির কারণে অন্তত ৯টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ঘাতক বাস জব্দ এবং দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি