Print Date & Time : 14 October 2026 Wednesday 10:36 pm

ডিএসইতে ফের দরপতন

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: এক দিনের স্বস্তির পর আবারও দরপতনে ফিরেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আসন্ন আর্থিক ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারের সার্বিক চিত্র ছিল দুর্বল। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৫টি কোম্পানি ও তহবিলের মধ্যে ২৪০টির দর কমেছে।  

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে নেমেছে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করেছে।  

বাজারে দরপতনের ব্যাপ্তিও ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনটিতে ৩৯৫টি কোম্পানি ও তহবিলের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮৪টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ২৪০টির দর কমেছে এবং ৭১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দর বাড়ার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর হারিয়েছে।

লেনদেন বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি
সূচক কমলেও ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দিন শেষে প্রায় ৭২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। তবে বাজারের দরপতনের মধ্যে লেনদেন বাড়ায় এটিকে শক্তিশালী ক্রয়চাপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত ও শেয়ারে লেনদেন কেন্দ্রীভূত ছিল।  

বস্ত্র খাত ছিল দিনের লেনদেনের শীর্ষে। মোট লেনদেনের ৩২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা প্রায় ২১৫ কোটি টাকা এসেছে এ খাত থেকে। মালেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। তবে লেনদেন বেশি হলেও খাতটির সার্বিক দর ছিল নিম্নমুখী।  

একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারে প্রায় ৫১ কোটি টাকার লেনদেন হলেও দর কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লেনদেনের পরিমাণ বেশি থাকলেও ক্রেতাদের চাপ শেষ পর্যন্ত দর ধরে রাখতে পারেনি।

বিমা খাতেও মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ
সাধারণ বিমা খাতেও গতকাল চাপ ছিল। কয়েকদিন ধরে এ খাতে লেনদেন বাড়ার পর একশ্রেণির বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় খাতটির গড় দর ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় এ খাতের লেনদেনও কমেছে।  

ব্যাংক খাত অবশ্য বাজারের পতন কিছুটা ঠেকিয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক, ইউসিবি ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে ব্যাংক খাতের মোট লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে।  

ওষুধ ও রসায়ন খাতেও লেনদেন হয়েছে। মোট বাজারের ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ লেনদেন এসেছে এ খাত থেকে। স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও সার্বিকভাবে খাতটির দর ছিল দুর্বল।

উচ্চ সুদহার নিয়ে উদ্বেগ
বাজারের ওপর সামষ্টিক অর্থনীতির চাপও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। উচ্চ সুদহার দীর্ঘ সময় ধরে থাকায় পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ঋণনির্ভর কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন বেতন কাঠামোর কারণে ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফায় চাপ তৈরি হতে পারে–এমন উদ্বেগও বাজারে রয়েছে।
  
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশি
বাজারের লেনদেনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণই ছিল বেশি। দিনের মোট ক্রয়াদেশের ৮৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিক্রয়াদেশের ৮৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এসেছে খুচরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম ছিল।  

তবে ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে সেখানে প্রায় ৬০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়। সায়হাম টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে।  

সব মিলিয়ে, লেনদেন কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় বাজারের ভেতরের চিত্র দুর্বলই ছিল। এক দিনের স্বস্তির পর আবার সূচক কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। সামনে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং উচ্চ সুদহারের প্রভাব বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।