Print Date & Time : 13 October 2026 Tuesday 09:46 pm

সূচক ধরে রাখল বস্ত্র-বিমা খাত

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জুন সমাপনী কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষার মধ্যেও নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে গতকাল মঙ্গলকার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন হয়নি। বিশেষ করে বস্ত্র ও সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন বাজারকে কিছুটা সমর্থন দিয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ছিল, যার প্রভাবে লেনদেনের গতি কমেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মোট লেনদেনের বড় অংশ হয়েছে বস্ত্র ও সাধারণ বিমা খাতে। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা দিনের মোট লেনদেনের ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ খাতে গড়ে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বীমা খাতে লেনদেন হয়েছে ১০৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ খাতেও গড়ে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।  

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানিমুখী শিল্প নিয়ে প্রত্যাশা এবং কিছু কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের খবরে বস্ত্র খাতের নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা দেখা গেছে। ফলে সূচকে বড় পরিবর্তন না হলেও কয়েকটি খাতে লেনদেনের ঘনত্ব বেড়েছে।  

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বস্ত্র খাতের সায়হাম টেক্সটাইল। কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই খাতের সায়হাম কটনের শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া মতিন স্পিনিং ও দুলামিয়া কটনের শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে।  

তবে বাছাই করা কিছু শেয়ারে আগ্রহ থাকলেও পুরো বাজারে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান এখনও সতর্ক। জুন সমাপনী কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সভা, আর্থিক ফলাফল ও সম্ভাব্য লভ্যাংশ ঘোষণার আগে অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। দিনের বেশির ভাগ সময় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষ দিকে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপ বাড়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত সূচক সামান্য কমে যায়।  

এ দিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৫টি কোম্পানি ও তহবিলের মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, ১৭৮টির কমেছে এবং ৭৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে বোঝা যায়, কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল মিশ্র।  

অন্যদিকে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যাও কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।  

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে ব্লক মার্কেটে। দিন শেষে ৩৮টি কোম্পানির শেয়ারে মোট ৫৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও আইপিডিসির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।  

বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে জুন সমাপনী কোম্পানিগুলোর পর্ষদ সভা, আর্থিক ফলাফল এবং লভ্যাংশ ঘোষণার দিকে। এসব ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে কোন খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, সেটিই হবে বাজারের অন্যতম আলোচনার বিষয়।