Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 07:26 pm

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর টানা অভিযান, নিহত ৭১

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, শাবানসহ বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এসব সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন শাবান’ ও বেলুচিস্তানের অন্যান্য এলাকায় গত ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোয়েটার শাবান এলাকায় ভারতীয় মদতপুষ্ট ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর একাধিক আস্তানা শনাক্ত করে। আইএসপিআর দাবি করেছে, এসব আস্তানা স্থানীয় জনগণের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

শাবানে অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং একাধিক আস্তানা ধ্বংস করে। তীব্র গোলাগুলির পর ৩৩ জন ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। এসময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়।

আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় অভিযান আরও জোরদার করা হলে আরও ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সন্ত্রাসীদের হুমকি থেকে মুক্ত করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর শাবান অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীর সংখ্যা ১৩ জনে পৌঁছেছিল। পরদিন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ জনে। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর নোশকিতে পৃথক একটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে আরও ১১ জন ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করে আইএসপিআর। ম্যান্ড এলাকায় আরও ৬ জন ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর আরও দাবি করে, ভারতে সমর্থন ও মদতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগান তালেবান সরকারের সংশ্লিষ্টতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে প্রাণহানি ঘটার পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।

‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ শক্তি নিয়ে চলবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিদেশী মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রেসিডেন্সির এক বিবৃতিতে তিনি প্রদেশটির একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংসকে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। বিদেশী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশী সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে পাকিস্তান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসীদের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ নস্যাৎ করা হয়েছে। ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর সন্ত্রাসীদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।

সূত্র: ডন

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ