Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 03:33 am

১৫ বন্দর কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও কনসেশন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি

image

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তি বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন থেকে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান সব চুক্তি প্রক্রিয়া স্থগিতকরণ, শ্রমিক आंदोलনের সময় ১৫ জন বন্দর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণের জোর দাবি জানানো হয়।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সরকারকে দাবি আদায়ে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিল।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখে কৃত্রিম জনবল সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বন্দর পরিচালনা ব্যাহত করে পরিকল্পিতভাবে এটিকে বেসরকারিকরণের চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।

কর্মসূচিতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংগঠনের শীর্ষ নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।" ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি হস্তান্তর না করলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ২৩ লাখ প্রবাসী শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর যে কথা বন্দর চেয়ারম্যান বলেছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

এ ছাড়া এনসিটির যন্ত্রপাতি অকেজো ও এর পরিচালন দক্ষতা ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে—বন্দর চেয়ারম্যানের এমন যুক্তি খণ্ডন করে ইব্রাহিম খোকন দাবি করেন, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি ও লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এ জাতীয় দাবির কোনো ভিত্তি নেই; কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে টার্মিনালটি তুলে দিতেই এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, লাভজনক এই টার্মিনালটি সরকারি বা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত বন্দর কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত পদক্ষেপ বন্ধ না করলে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতির দায়ভার বন্দর কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে নগরীর ফকিরহাট ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ এলাকা পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করে পরিষদ।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিকদল নেতা হারুন অর রশিদ, ইয়াছিন রেজা রাজু, মো. হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ সহসম্পাদক মোজাহের হোসেন শওকত, আবুল কালাম আজাদ, আনোয়ারুল আজিম রিংকু, মঞ্জুরুল পারভেজ সুমন, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, শফিকুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া বন্দর স্টাফ ইউনিয়ন নেতা ফয়েজ উল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান রুবেলসহ সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি