Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:20 pm

আন্টার্কটিকা-গ্রিনল্যান্ডে গলছে বিপুল বরফ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর দ্রুত গলে যাচ্ছে। গত ৪৭ বছরে বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই বরফভূমি থেকে ১২ লক্ষ কোটি টনের বেশি বরফ গলে সমুদ্রে মিশেছে। এর ফলে ১৯৭৯ সাল থেকে সমুদ্রের জলস্তর ৩১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বেড়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন বিজ্ঞানী মিলে গবেষণাটি করেছেন। ‘সায়েন্টিফিক ডেটা’ জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ২৭টি কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত ৪২টি সমীক্ষার ফলাফলও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, বরফ গলার ৮৪ শতাংশের জন্য দায়ী হিমবাহের ভারসাম্যহীন গতি। সমুদ্রের সংস্পর্শে থাকা হিমবাহগুলোতে বরফ গলার হার বেশি। বাকি ১৬ শতাংশ বরফের ক্ষয় বায়ুমণ্ডলের প্রভাবে হয়েছে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও ব্রিটেনের নর্থামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহবিদ ইনেস ওতোসাকা জানান, ক্ষয়ে যাওয়া বরফের বড় অংশই হিমবাহের মাধ্যমে সমুদ্রে মিশেছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে হিমবাহের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এতে সমুদ্রের পানিও উষ্ণ হচ্ছে। উষ্ণ সমুদ্রের স্রোত হিমবাহ ও বরফস্তরের ওপর প্রভাব ফেলছে। গ্রিনল্যান্ডে আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ পানি উত্তর দিকে প্রবেশ করছে। আন্টার্কটিকার ক্ষেত্রেও মেরুদেশীয় উষ্ণ স্রোতের প্রভাব বাড়ছে।

২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আন্টার্কটিক উপদ্বীপে বরফ গলার প্রবণতা কিছুটা কমলেও ২০২৩ সালের পর তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। গবেষকদের ধারণা, ওই সময়ের সাময়িক স্থিতিশীলতা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

জা.অর্থনীতি/এসআই