জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: গণমাধ্যমে প্রায়ই শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা কিংবা হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার খবর উঠে আসে। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হঠাৎ নিখোঁজ হয়। ওই দিন রাতেই থানায় জিডি করা হলেও, পরদিন সকালে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণত নিকটস্থ থানায় জিডি বা অভিযোগ করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে তিন বছরে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ৭২ হাজার ৪৮৯টি। এর মধ্যে কেবল এ বছরের প্রথম সাত মাসেই জিডি হয় ১৫ হাজার ৭১৭টি। পুলিশ ১২ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করতে পারলেও, এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন। অর্থাৎ, মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ২৫৪ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ৩৬টি শিশুর।
পুলিশের মতে, অনেক সময় পথ ভুলে কিংবা সঠিক ঠিকানা বলতে না পেরে শিশুরা হারিয়ে যায়। আবার বয়স একটু বাড়লে অভিমান, পারিবারিক কলহ বা পড়াশোনার চাপে অনেক শিশু নিজ থেকেই বাড়ি ছাড়ে। তবে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ—থানায় গেলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয় না। শুরুতেই জিডি না নিয়ে উল্টো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা উদ্ধার কাজকে আরও বিলম্বিত করে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি