গাজীপুর প্রতিনিধি: পরিবেশ সুরক্ষা ও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজে ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার সিটি কলেজ পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে ১২ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার সিটি কলেজ পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে উপাচার্য কলেজের শ্রেণিকক্ষ, অবকাঠামো ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সরজমিনে ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বেগবান করা হবে। সরকারি সবুজায়ন নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কলেজ প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোয় রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভিসি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস এবং কাগজবিহীন (পেপারলেস) প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। ডিজিটাল শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অভিশাপ সেশনজট নিরসনে সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, "বর্তমানে মাত্র ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রায় ৬৫ লাখ শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করার পিছনের মূল কারিগর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।"
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে পাঠ্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আখতার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি