Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:23 pm

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, বিপদে রিপাবলিকান পার্টি

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: হঠাৎ করেই কেন মার্কিন রাজনীতিতে নেমে এলো ট্রাম্পের বড় পতন? যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ছুঁয়ে ফেলা এই অজনপ্রিয়তার কারণে কি এবার সত্যিই ক্ষমতার রাজনীতিতে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি?

অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে রিপাবলিকান পার্টির উপর ভোটারদের আস্থায় তীব্র ধস নেমেছে। একের পর এক জরিপে প্রকাশ পাচ্ছে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয়াবহ চিত্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেহিসাবি ও একরোখা পদক্ষেপের দরুন রিপাবলিকান পার্টি এখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের চরম মাশুল গুনতে হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া জাতীয় জরিপগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থনের গ্রাফ এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্থানে এসে ঠেকেছে। সিএনএন-এর জরিপে তার জনসমর্থন বা অ্যাপ্রুভাল রেটিং নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশে। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জরিপে তা ৩৩ শতাংশ এবং কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে রেকর্ড ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪০-এর দশকের পর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এটিই সবচেয়ে অজনপ্রিয় অবস্থা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের ক্রমাগত খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে দলীয় অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং দীর্ঘদিনের সমর্থকরাও যে হারে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তাতে করে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাম্পের এই পতনের মূলে রয়েছে দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক চাপ। বলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবিকার কষ্ট এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে হোয়াইট হাউস অনেকটাই উদাসীন। মার্কিন জনগণের এই অর্থনৈতিক দুর্দশা দূর করতে কোনো কার্যকর ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

এর পাশাপাশি প্রশাসনিক মনোযোগের দিক পরিবর্তনও জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মূল্যস্ফীতি কিংবা সাধারণ জীবনযাত্রার মানের দিকে নজর না দিয়ে হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল হিল ঘিরে বেশ কিছু বিলাসী ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যস্ত ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে স্বয়ং ট্রাম্প সমর্থক ঘাঁটিতেও চরম হতাশা ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মার্কিন ভোটারদের বিশেষ কিছু শ্রেণিতে। গ্রামীণ এলাকার কৃষক, ছোট খাতের ব্যবসায়ী এবং ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ ভোটারদের বড় অংশ ট্রাম্পের নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই জনগোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে, যার কারণে তাদের এমন অসন্তোষ বিপরীত রাজনৈতিক শিবিরের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

আইন ও বিচার বিভাগের ভেতরের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপগুলো নিয়েও বিতর্কের ঝড় বইছে। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বেশ কিছু বিতর্কিত চুক্তি এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ট্রাম্পের নিজস্ব সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবীকে মনোনয়ন দেওয়ায় চরম সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের পক্ষপাতমূলক নিয়োগ ও একরোখা সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে প্রশাসনবিরোধী অসন্তোষ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন জনগণ রিপাবলিকানদের চেয়ে বিরোধী দলকে বেশি যোগ্য মনে করছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাপক অসন্তোষ ও সামাজিক হতাশা মার্কিন রাজনীতির ভারসাম্য দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাসুল কি দিতে হচ্ছে পুরো রিপাবলিকান পার্টিকে? সিএনএন ও কুইনিপিয়াকের নতুন জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন খোদ তার নিজের সমর্থকরাই! আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কি তবে সত্যি লাল দুর্গের পতন হতে যাচ্ছে?

আমেরিকান রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন! দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪০ সালের পর দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় এমন ভয়াবহ ধস আর কখনো দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের দুর্দশা বাদ দিয়ে বিলাসী প্রকল্পে মনোযোগ এবং বিচার বিভাগে বিতর্কিত নিয়োগের কারণে তীব্র ক্ষোভে ফুসছে মার্কিন তরুণ ও ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিক দক্ষতার খেতাব হারিয়ে এবার কি তবে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি ক্ষমতাসীনরা?  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি