Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 03:51 am

কুকুর আতঙ্কে শার্শা-বেনাপোল, দুই মাসে কামড়ের শিকার ছয় শতাধিক

image

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: রাস্তায় পা রাখলেই আতঙ্ক, ঘর থেকে বের হলেই তাড়া করছে বেওয়ারিশ কুকুরের দল। যশোর জেলার শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর এলাকা জুড়ে গত দুই মাসে শিশুসহ প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ভিড় বাড়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্থানীয়রা।

শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, মহাসড়ক ও মোড়ে দিন-রাত দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। কুকুরের কামড়ের আশঙ্কায় অনেক শিশু একা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

কায়বা ইউনিয়নের দীঘা চালিতাবাড়ীয়ার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও নিজামপুর ইউনিয়নের গৌড় পাড়া গ্রামের মেহেদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন এদের সংখ্যা ও আক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। গ্রামে গ্রামে কুকুরের কামড়ে প্রতিদিন কেউ না কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে ছোটেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তৌফিক পারভেজ জানান, "গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রায় ছয় শতাধিক রোগী হাসপাতালে সেবা নিয়েছেন। হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে স্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে অবিলম্বে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে পোষা কুকুরকে নিয়মমাফিক টিকাদানের তাগিদ দেন এবং অপরিচিত কুকুর এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেন।

তবে কেবল পরামর্শে সীমাবদ্ধ না থেকে শার্শা ও বেনাপোলজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বন্ধে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি ও টেকসই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসন ও পৌরসভার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সচেতন মহল।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি