Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:46 am

বড় সরদার বাড়ি ও ফাউন্ডেশনের অনিয়ম তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

image

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: সোনারগাঁয়ের প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক 'বড় সরদার বাড়ি'-র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধ এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক নানা অনিয়মের অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা/প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বড় সরদার বাড়ির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, শুটিং-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ, ফাউন্ডেশনের আর্থিক কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষাসহ ১২ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপির অনুলিপি ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা/মন্ত্রী, ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সদস্য এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই দাবিতে গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং ৩১ আগস্ট সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, স্পর্শকাতর এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে টানা চার দিন ধরে বাণিজ্যিক নাটকের শুটিং চালানো হয়েছে। এ সময় উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি ও শক্তিশালী আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হয়। শুটিংয়ের আগে ‘হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জেনারেটরের ভয়াবহ কম্পন ও ভারী সরঞ্জামের চাপে ভবনের শত বছরের পুরোনো চুন-সুরকির গাঁথুনি, প্লাস্টার, কাঠ ও অলংকরণের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।

এছাড়া, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অ-কারুশিল্পীদের সুবিধাজনক স্থানে দোকান বরাদ্দের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোকানপ্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ নগদ লেনদেনের অভিযোগসহ ফাউন্ডেশনের সুবর্ণজয়ন্তী, মেরামত কাজ, কাঁচামাল কেনা ও সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার আবেদন জানানো হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস জানান, তারা কোনো অভিযোগকে আগাম চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দাবি করছেন না; তবে স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষা ও প্রান্তিক কারুশিল্পীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আকুল আবেদন জানান তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি