নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রায় ৭০ বছর ধরে চার গ্রামের পানি যে পথ দিয়ে সোয়াইজনী নদীতে গিয়ে পড়ত, সেটি বালু দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়হাটি, সাহাপাড়া, বর্মনপাড়া ও কামারহাটি গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ।
গত ৩ আগস্ট রাতের আঁধারে স্থানীয় মৃত আব্দুল রাশিদের তিন ছেলে ফরজ আলী (৪৫), সুন্দর আলী (৬০) ও হযরত আলী (৫৫) পানি নিষ্কাশনের ওই জায়গায় বালু ভরাট শুরু করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুনিয়াহাটি নিমতলা মাজারসংলগ্ন ওই জায়গাটি ছিল চার গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। সেখান দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি সরাসরি সোয়াইজনী নদীতে চলে যেত। প্রায় সাত দশক ধরে এভাবেই পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছিল। ফলে এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি।
বালু ভরাটের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে জানান। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবি, সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের পর বালু ভরাটের কাজ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন ইউএনও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাময়িক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা আবারও সেখানে বালু ভরাট শুরু করেন। একপর্যায়ে জায়গাটি পুরোপুরি ভরাট করে দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।
এতে চার গ্রামের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথটি বন্ধ হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানিবন্দী হয়ে পড়েন প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পানিতে আটকে থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
এ ঘটনায় বড়হাটি গ্রামের বাসিন্দা আ: আহাদ, মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে, ৪৩টি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যৌথ স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা ভূমি অফিস ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জায়গাটি মাপজোখ করে সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে কুটিও স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গাটি সরকারি হিসেবে চিহ্নিত করার পরও অভিযুক্তরা তা মানছেন না। উল্টো জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করছেন তারা। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ এখনো উন্মুক্ত না হওয়ায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী আ: আহাদসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তারা পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল, দৈনন্দিন কাজকর্মসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি জায়গা ভরাটের ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গাটি মাপজোখ করে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি