Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:53 am

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীরবতা ভেঙে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা, সামাজিক কলঙ্ক দূর করা এবং ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আত্মহত্যাকে কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা হিসেবে দেখলে এর কার্যকর প্রতিরোধ সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক এক বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের মনে আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। এ সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো গড়ে তুলতেও সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যা মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এককভাবে সরকারের পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন উপকরণ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবেই তাঁদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা বা ক্রিমিনালাইজ করা যাবে না।

আঁচল ফাউন্ডেশনের লিড সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সায়েদুল ইসলাম সাইদ বলেন, আত্মহত্যার পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে একজন ব্যক্তি এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। কেউ আত্মহত্যার কথা বললেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “যারা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে, আমরা তাদের অপরাধী মনে করি। এটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ক্ষেত্রে বর্তমান আইন পরিবর্তন নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে। কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, যারা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে, তাঁরা মূলত অসুস্থতা থেকে করে। অসুস্থ মানুষকে আমরা অপরাধী বলতে পারি না।”

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন আলী শাহ, লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা, ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফল জমির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় পেশাজীবী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও এইচআরডিসির পরিচালক জিয়ানুর কবির প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্য দেন এইচআরডিসির সিইও মাহবুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এটিএন বাংলার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর একরামুল হক সায়েম।

—জা.অর্থনীতি/আরএস