আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগ এলাকায় ছ’তলা একটি মেসবাড়ি ধসে অন্তত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে আরও কেউ সেখানে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবারের এই ঘটনায় বাড়িটির নির্মাণ ও ব্যবহার নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো বাড়িটি কয়েক মাস আগেও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বাড়ির মালিক হরিরাম বনসল প্রায় ২০ বছর আগে গুরুগ্রামে চলে যান। সম্প্রতি বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে রাখা শুরু করেন তিনি। অভিযোগ, সংস্কারের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়। এমনকি দুর্ঘটনার সময় বেসমেন্টেও কাজ চলছিল।
দিল্লি পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বাড়িটির মাত্র দোতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন ছিল। অথচ তার উপর আরও চারটি তলা বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি, বসতবাড়িটিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার আগে টানা দু’দিন বৃষ্টিতে এলাকায় জল জমেছিল। নিচু রাস্তার পাশাপাশি ভবনের বেসমেন্টেও জল ঢুকে যায়। সেই অবস্থাতেই সেখানে সংস্কারের কাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, জল ঢুকে বেসমেন্টের পিলার দুর্বল হয়ে পড়াতেই বাড়িটি ধসে থাকতে পারে।
মৃতদের মধ্যে যুবরাজ নামে এক ছাত্র ও এক শ্রমিকের পরিচয় জানা গিয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। আহতদের দিল্লি এমসের ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা চলছে। ঘটনায় বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
জা.অর্থনীতি/এসআই