Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 04:16 am

কাদা আর পাথরে বন্ধ সুড়ঙ্গ, আর কেউ বেঁচে থাকার সম্ভবনা নেই

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কোনো জীবিত বা মৃত শ্রমিক নেই বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কাদা, মাটি ও পাথরে পুরো সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশ চাপা পড়ে যাওয়ায় সেখানে আর কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনাও নেই।

নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। দলের নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। অভিযানে নেপালি সেনার সদস্যরাও অংশ নেন।

এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে সর্বত্র কাদা, মাটি ও পাথরের স্তূপ পাওয়া গেছে। আকস্মিক বন্যার পানির চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে।

গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

এর মধ্যে ত্রিশূলীর একটি সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থাকার পর শুক্রবার জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ। উদ্ধার হওয়ার পর সঞ্জয় জানান, বন্যার খবর পেয়ে অন্য শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজেই আটকা পড়েন। নয় দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে তিনি মন্ত্র জপ ও প্রার্থনা করেছেন।

শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যায় ১ হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।

জা.অর্থনীতি/এসআই