নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) অনাবাসী গ্রাহকদের রাখা বৈদেশিক মুদ্রার আমানতকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এসব অর্থ জামানত রেখে শুধু আবাসিক কোম্পানি, ফার্ম ও ব্যক্তিকে স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধনের অর্থায়ন নয়, আবাসিক ব্যক্তি ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন ও ভোক্তা ঋণও দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি-১) গতকাল বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। এতে দেশের সব তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা সার্কুলার নম্বর ২৭ অনুযায়ী, অনাবাসী হিসাবধারীদের ওবিইউতে রাখা বৈদেশিক মুদ্রার আমানত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট (ডিবিইউ) জামানত হিসেবে গ্রহণ করে আবাসিক কোম্পানি, ফার্ম ও ব্যক্তিকে অর্থায়ন করতে পারে।
আগের নির্দেশনায়, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকার (জিএফইটি) ১৩ অধ্যায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ অনুযায়ী পরিচালিত অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবের স্থিতি জামানত রেখে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধন অর্থায়নের সুযোগ ছিল।
নতুন নির্দেশনায় এই সুযোগের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব এবং অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবের স্থিতি জামানত রেখে আবাসিক কোম্পানি, ফার্ম ও ব্যক্তিকে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধনের অর্থায়ন দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে আবাসিক ব্যক্তি ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বা ভোক্তা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব হিসাবের স্থিতি জামানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
তবে এ ধরনের অর্থায়নের ক্ষেত্রে আগের সার্কুলারের ২, ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগের সার্কুলারের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন নির্দেশনাটি জারি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ বিভাগের পরিচালক (বর্তমান দায়িত্ব) ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক।
—জা.অর্থনীতি/আরএস